দেশে এই প্রথম মৌলভীবাজারে 'মেছো বিড়াল' হত্যার দায়ে সাজা

ফাইল ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাজিরহাট গ্রামে একটি মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় মামুন মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বন আদালত।

গত সোমবার (২৯ নভেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা বন আদালত এ রায় দেন বলে নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র।

তিনি জানান, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কাজিরহাট গ্রামে মামুন মিয়ার বাড়ির পুকুরে মেছো বিড়ালটি মাছ শিকার করে খাচ্ছিল। এ সময় মামুন মিয়া তার সহযোগিদের নিয়ে কৌশলে মেছো বিড়ালটিকে আটকে প্রচণ্ড নির্যাতন করলে প্রাণীটির মৃত্যু হয়। মেছো বিড়াল হত্যার ওই ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নজরে আসলে হত্যাকারী মামুন মিয়াকে শনাক্ত করা হয়।

পরে তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বন আদালতে বন্যপ্রাণী হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনা তদন্তের পর গেল বছরের ৩১ ডিসেম্বর বন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দায়ের করা হয়। এদিকে মামুন মিয়া আদালতে মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় মামুন মিয়াকে দশ হাজার টাকার জরিমানা করেন আদালত।

তিনি বলেন, মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনার এক বছর পর হত্যাকারীর শাস্তি প্রদান করা হলো। মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় দেশে এটিই আদালতের প্রথম শাস্তি বলেও জানান তিনি।  

এদিকে, বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, মেছো বিড়ালকে (Fishing Cat) অনেক এলাকায় মেছোবাঘ নামেও ডাকে। এর প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল। কিন্তু বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না। বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটি বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মেছো বিড়ালকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সূত্র:  সময় টিভি