আশায় বুক বেঁধে বৈশাখের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষাণ কৃষাণীরা, আছে ফসল হানির শঙ্কা


ছায়াদ হোসেন সবুজ, শান্তিগঞ্জ: গেল বৈশাখেও উৎসাহ উদ্দীপনা আর উৎসবে ধান গোলায় তুলেছিলেন শান্তিগঞ্জের কৃষকরা। ধান ঘরে তুলতে পেরে হাসির চাপ ছিল প্রতিটি কৃষক পরিবারে৷ তবে এবার এ উদ্দীপনা, হাসি যেন ম্লান। ফসলডুবির ভয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা৷ এ বৈশাখে দুঃখের আঁচড় যেন লেগেই আছে।। কিছুতেই যেন আতংক কাটছে না কৃষকদের।

পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে টানা বৃদ্ধির পর গত কয়েদিনে সুনামগঞ্জের সব নদনদীর পানি কিছুটা কমেছে। এতে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষক। তবে তাদের জন্য শঙ্কার খবর, আগামী ২৪-৭২ ঘন্টায় নদীর পানি ফের বাড়তে পারে। এমন তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এমন খবরে চিন্তিত শান্তিগঞ্জের কৃষকরা। বাঁধে বাঁধে পানির চাপ কমলেও ফসল হানির ভয়ে কাতর তারা৷ এখনো বাঁধে রাত জাগা থামেনি তাদের। বৃষ্টির একেকটা ফোটা যেন কৃষকের কান্নার চিহ্ন৷

নানা উৎকণ্ঠা নিয়ে ইতিমধ্যে হাওরে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। অনেকে আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে আসছেন বাড়িতে৷ মাঠে মাঠে বৈশাখের প্রস্তুতির নিচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা । কেউ মাড়াই দিচ্ছেন, কেউ খলা তৈরীতে ব্যস্ত আছেন। কেউ কেই আবার হাওরে বসতি স্থাপনের জন্য হোড়া তৈরী করছেন। তবে আকাশ কালো দেখলেই মন ভেঙ্গে যায় তাদের। ভয় কাজ করে কখন জানি কি হয়ে যায়৷ একটা ভয় কাজ করছে সর্বদা৷ প্রতিনিয়তই বাড়ছে ফসল নিয়ে ঝুঁকি। সব মিলিয়ে ভালো নেই শান্তিগঞ্জের কৃষকরা।

কৃষক আব্দুল কাইয়ুম ও ছলিম মিয়া বলেন, পানি কমতে না কমতেই আরেক আতংক। এখনো ধান পুরোধমে কাটাই শুরু হয়নি। আরও ৫-৭ দিন লাগবে। ঢলের খবরে মনটা ভালো নেই। আকাশে মেঘ দেখলেই ভয় লাগে। জানিনা এবার ভাগ্যে কি আছে।

এদিকে গবাদিপশু নিয়েও দুশ্চিন্তার শেষ নেই কৃষকদের। তারা চিন্তায় আছেন যদি ফসল হানি হয় তাহলে গবাদিপশু নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার পড়তে হবে তাদের। গোখাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করবে। এ চিন্তা থেকেই খরের জন্য অনেকেই আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে আসছেন। 

জামখলা হাওরের ৪ নং পিআইসির সাধারণ আফরুজ মিয়া বলেন, বাঁধে এখন পানির চাপ নেই। তবে বৃষ্টি আর ঢল নামলে সমস্যা হবে। বাঁধের সুরক্ষায় রাতদিন এখানেই আছি আমরা। 

কৃষি বিভাগ বলছে আর কয়দিন সময় পেলেই পুরোদমে ধান কাটা শুরু করা হবে ৷ যত পারা যায় দ্রুত ধান কাটার জন্য প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন তারা। গতকাল পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশে আরও নড়েচড়ে বসেছেন প্রশাসন। তাদের জোর তদারকি চলমান আছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার উজ জামান বলেন, বাঁধে বাঁধে নজরদারি অব্যাহত আছে। আমরা আশাবাদী কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।