সুনামগঞ্জে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি ছাড়ল কিশোরী


ডেস্ক রিপোর্ট : বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে রাতে বিয়ের আসরে বসার আগেই বাড়ি ছাড়ল এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘট ইউনিয়নের ইউনুসপুর গ্রামে শনিবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটে।

শনিবার রাতে ওই ছাত্রী গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন, পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

ভিডিও বার্তার সূত্র ধরে রোববার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ইউনুসপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন ও কুলসুমা বেগম দম্পতির ১৬ বছর বয়সী কিশোরী মেয়ে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। শনিবার রাতে বাড়িতে থাকা তার ভাইপো জয়নাল আবেদীনের (৩০) সঙ্গে তার রেজিস্ট্রি ছাড়াই মৌলভীর সাহায্যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এ বিয়েতে ওই ছাত্রীর কোনো সম্মতি নেই। কিন্তু তার বাবা ও পরিবারের লোকজন জোর করেই তাকে তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়েরপিঁড়িতে বসাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

বিয়ের আতঙ্কে শনিবার রাতে ওই ছাত্রী উপজেলার বাদাঘাটে তার মামাবাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি রাতেই প্রধান শিক্ষক, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, ইউএনওকে নিজেই জানিয়েছে স্কুলছাত্রী।

স্কুলছাত্রীর বড় ভাই আবুল কালাম বলেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাদাম ব্যবসায়ী আমার চাচাতো ভাই আবু বক্করের (৩০) সঙ্গে ছোট বোনের বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করি, কিন্তু মৌলভী বিয়ে পড়ানোর কাজ শুরুর আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে মামাবাড়িতে আশ্রয় নেয় আমার বোন। আমার বাবাসহ আমরা ৫-৬ জন রাতেই তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে গেলে সে ভয়ে বাড়ি ফিরেনি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রায়হান কবির গণমাধ্যমেক জানান, স্কুলছাত্রী তার মামার বাসায় থেকে আপাতত এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির নিতে স্কুলের পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। যদি আবার তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করা হয়, এ ক্ষেত্রে যে বা যারাই জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্র: যুগান্তর