হবিগঞ্জে প্রেমিক-প্রেমিকাকে একসঙ্গে দেখে ফেলায় লাশ হলো শিশু লিজা !


ডেস্ক রিপোর্ট : প্রেমিক-প্রেমিকাকে এক সাথে দেখে ফেলা এবং বিষয়টি প্রেমিকার মাকে জানিয়ে দেয়ার কারণে ৯ বছরের শিশু লিজাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতকরা। পরে তার লাশ বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের ৬ মাস পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আল মামুন শিকদার।

তিনি জানান, গত বছরের ২১ জুলাই ঈদ-উল আযহার দিন সন্ধায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গন্ধবপুর গ্রামের মো. সাগর আলীর মেয়ে লিজা আক্তারকে (৯) তার মা সেলিনা বেগম প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্য সামগ্রী আনতে গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাজারে পাঠান। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও সে ফিরে আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। পরে ওইদিন রাতেই শিশু লিজার বাবা সাগর আলী মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজের চারদিন পর গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড়ে লাকড়ি খুড়াতে গিয়ে লিজার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান এক নারী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। রাতে লিজার বাবা সাগর আলী অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় হবিগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে পিবিআইয়ের সদস্যরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্ধেহে গত ৭ ও ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের বাহার উদ্দিন, খাদিজা আক্তার তাজরীন ও আমেনা খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবদ করে। পুলিশের জিজ্ঞাসবাদে হত্যাকা-ের ঘটনা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে তারা।

পরে ৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) আসামীদের আদালতে হাজির করলে বাহার ও তাজরীন হবিগঞ্জের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুমুর সরকারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আসামীরা আদালতকে জানায়, গ্রেপ্তার তাজরীনের ছোটভাই তাকবীর হাসানের সাথে প্রতিবেশি কিশোরী শান্তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাধে তারা দুজনের প্রায়ই দেখা সাক্ষাত করত।

হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে এক সন্ধ্যায় শান্ত ও তারবির দেখা করার সময় শিশু লিজা তাদেরকে একসাথে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি সে শান্তার মাকে জানিয়ে দেয়। এরপর শান্তার মা শান্তাকে গালি-গালাজ করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন। এতে তাদের প্রেম নষ্ট হওয়ার পথে চলে যায়।

রাগে ও ক্ষোভে লিজাকে শায়েস্তা করার সুযোগ খোঁজতে থাকেন শান্তা ও তাকবির। গত বছরের ২১ জুলাই ঈদ-উল আযহার দিন সন্ধ্যায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে লিজাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায় ঘাতকরা। এ সময় তারা লিজাকে গলা টিপে হত্যা করে বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে আসে।

পুলিশ সুপার মো. আল মামুন শিকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডে বেশ কয়েকজন ঘাতক অংশ নেয়। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের সার্থে নাম-পরিচয় ও ঘাতকের সংখ্যা প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

সংবাদ : সিলেটভিউ