কানাইঘাটে ফরিদ হত্যা : মুখোশ পরে কিলিং মিশনে অংশ নেয় ঘাতকরা


ডেস্ক রিপোর্ট : পাহাড়ি ঢালে রাস্তা। মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন ফরিদ উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন তার ভায়রা শাহীন আহমদ। নির্জন স্থানে যাওয়া মাত্র হঠাৎ অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা। অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি কোপায় ফরিদ উদ্দিনকে। ভায়রা শাহীনের ওপরও হামলা করে। উপর্যুপরি কোপানোর ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ফরিদ উদ্দিন। এ সময় পাহাড়ি এলাকা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
সিলেটের কানাইঘাটের বড়খেওড় গ্রামে সোমবার বিকালে আলোচিত এ খুনের ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ খুনের ঘটনার কিনারা করতে পারেনি।

নিহত ফরিদের ভায়রা শাহীন আহমদ গুরুতর অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। শাহীনের কাছ থেকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য মিলেনি। তবে আহত শাহীন জানিয়েছেন; মুখোশ পরা ৩-৪ জন যুবক সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরিদকে কোপায়। বাধা দিতে গেলে তার ওপরও হামলা হয়। খুনিদের মুখোশ পরা থাকায় তিনি তাদের চিনতে পারেননি। তবে ফরিদ খুনের ঘটনার পর পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। খুনিদের শনাক্ত করতে তারা প্রযুক্তি সহায়তার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক নানা ইস্যু নিয়ে বিশ্লেষণ করছে। নিহত ফরিদ উদ্দিন কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী খাসারীপাড়া গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে। সোমবার বিকাল চারটার দিকে পার্শ্ববর্তী বড়খেওড় এফআইডিবি স্কুলের সামনে তার ওপর অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে খুন করে। এ খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায়ই ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনা এলাকার মানুষকে হতবাক করেছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে- খুনি কারা। পুলিশ এখনো খোঁজ পায়নি। কেউ কেউ বলছেন ভাড়াটে খুনি। আবার কেউ বলছেন- পূর্বের বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফরিদ উদ্দিন মোটরসাইকেলযোগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার ভায়রা শাহীন আহমদকে নিয়ে স্থানীয় মমতাজগঞ্জ বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। বড়খেওড় এফআইবিডিবি স্কুলের সামনে আসামাত্র কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফরিদ উদ্দিনের গতিরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা ফরিদ উদ্দিনের দুই পা ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করলে প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ফরিদ উদ্দিনের মৃত্যু হয়।

এ সময় ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে থাকা তার ভায়রা শাহীন আহমদও আহত হন। ঘটনার পর পর পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে অভিযান চালালেও কাউকে খুঁজে পায়নি। নিহতের আত্মীয়স্বজনরা জানান, ফরিদ উদ্দিন তার ফেসবুকের নিজস্ব আইডিতে এনাম খান নামে এক ব্যক্তি তাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়েছিল। যা গত কয়েকদিন থেকে ফরিদ উদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এর জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। এনামের ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন। ঘটনার সময় নাজিম সিলেটে অবস্থান করছিলেন। আগে থেকে ওই পরিবারের সঙ্গে নিহত ফরিদের পরিবারের নানা বিরোধ চলে আসছিলো। এসব বিরোধের জের ধরে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে। তবে নাজিম উদ্দিন ও তার পক্ষের লোকজন ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

কানাইঘাট থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই এলাকায় যায়। খুনের ঘটনাকারীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান চলছে। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে নিহত ফরিদের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। এদিকে ফরিদ উদ্দিন খুনের ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও তদন্তে নেমেছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে ছায়া তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ কিংবা র‌্যাব কাউকে আটক করেনি।

সূত্র : মানবজমিন