বিয়ানীবাজারের জায়গীরদার চা : চাপ্রেমীদের আড্ডাখানা

ছবি : ডি এইচ মান্না

ডি এইচ মান্না : দুটি পাতার এক কুঁড়ি চায়ের দেশ সিলেট। সিলেট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চায়ের নাম। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত এখানকার মানুষজনেরও প্রধান খাবার ভাত-মাছ। কিন্তু পানীয় হিসেবে একজন সিলেটির কাছে চায়ের চাইতে প্রিয় আর কিছুই হতে পারে না। সিলেটের সবমহলে চায়ের যে পরিমানের গুরুত্ব বহন করে তা একজন সিলেটি ছাড়া অনুধাবন করা কঠিন!

একজন সিলেটি দিন শুরু করেন বা মুখ খুলেন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে। এক কাপ চা নাকি অনেকের সারাদিন চলার পথে এনার্জি হিসেবে কাজ করে। 

সিলেটে চাপ্রেমীদের এক অন্যরকম চায়ের জগৎ জায়গীরদার। সেখানের দোকানগুলো দেখতে অভিজাত কিংবা চাকচিক্যময় না হলেও স্বাদ-গুণ-মানে এখানের চা পূর্ব সিলেটে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। উপজেলার হিসেবে সিলেটের বিয়ানীবাজারের আলীনগর ইউনিয়নে জায়গীরদার জায়গাটি। কিন্তু এই এলাকা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের মধ্যবর্তী জায়গা হিসেবে সমাধিক পরিচিত। জায়গীরদার পয়েন্টের রাস্তার পাশেই অস্থায়ীভাবে কাঠ ও টিনের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ৪-৫ টি চায়ের দোকান বা টি-স্টল সিলেটের চাপ্রেমীদের পছন্দের অন্যতম জায়গা। 

  • জায়গীরদারের চায়ের কেন এত সুনাম?

এখানকার দোকান গুলোর চায়ের স্বাদ, গন্ধ, লিকারে রয়েছে নিজস্বতা। যা অন্য জায়গার পাওয়া যাবে না। জায়গীরদারের চায়ের দাম তুলনামূলক কম। এখানে প্রতিকাপ দুধ চা ১০ টাকা, গুড়ের চা ৭ টাকা,ও রঙ চা ৫ টাকা করে বিক্রি হয় সবকটি দোকানে। 

  • জায়গীরদারের যেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠল

জায়গীরদারের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই পয়েন্টে একসময়ে তেমন কোন দোকানপাট ছিল না। বর্তমান পয়েন্ট থেকে সামান্য কিছু দূরত্বে প্রথমে মুক্তা মিয়া নামের একজন দোকান খোলেন। সেখানের চায়ের কারিগর ছিলেন বর্তমানে এখানকার সবচেয়ে বড় চায়ের দোকানী শাম্মি হোটেলের মালিক জাহেদ আহমদ। তিনি ওইসময়ে মুক্তা মিয়ার দোকানে কাজ করতেন। তখন তিনি কড়া লিকারে কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে চা তৈরি করতেন। সেই চায়ের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 

পরবর্তীতে তারই নিয়মে চায়ের লিকার তৈরি করে এখানে একে একে গড়ে ওঠে একাধিক চায়ের দোকান। নিজস্ব নিয়মে তৈরি এই চা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দিনদিন। এসব চায়ের দোকানগুলোতে সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত হাজারো মানুষের আনাগোনা থাকে।  
জায়গীরদারের সবচেয়ে বড় চায়ের দোকান শাম্মি হোটেলের স্বত্বাধিকারী জাহেদ আহমদ জানান, তিনি প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ১২ শত কাপ চা বিক্রি অনেক। এই দোকানের আয়ের টাকায় ভালোভাবেই চলে তাদের পরিবার। তার দোকানে চা বিক্রিতে সহযোগিতা করেন তার ভাইয়েরা। চায়ের পাশাপাশি তিনি পান-বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় বিক্রি করেন। 


  • কীভাবে যাবেন জায়গীরদাতে?

সিলেটের কদমতলী পয়েন্ট থেকে জকিগঞ্জ-চারখাইগামী বাস অথবা সিএনজি অটোরিকশা করে জায়গীরদার পয়েন্টে যাওয়া যায়। সময় লাগবে প্রায় ৪০ মিনিটের মত৷ ভাড়া নেবে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।