গোয়াইনঘাটে আশ্রয়কেন্দ্রে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম


ডেস্ক রিপোর্ট :  ভারি বর্ষণ আর উজানের পানিতে ডুবেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। এ অবস্থায় বন্যাদুর্গত মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। এর মধ্যে পৃথক দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন দুই প্রসূতি ও তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা।

তাদের মধ্যে একজন প্রসূতি ও তার পরিবারের সদস্যা উপজেলার দশগাঁও নওয়াগাঁও হাইস্কুল এন্ড কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন। ওই প্রসূতি নারী নওয়াগাঁও গ্রামের আবুলের ছেলে সিএনজি চালক শাহীন আহমেদের স্ত্রী।

সরোজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৪ জুন বিকালে নৌকা দিয়ে দশগাঁও নওয়াগাঁও হাই স্কুল এন্ড কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন তারা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে শাহীনের স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হয়। শুক্রবার সকালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

স্থানীয়রা জানান, বুপাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকায় অস্বাভাবিক জোয়ারে পানি ঘরে ঢুকে ও গ্রাম প্লাবিত হয়। এসময় নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জয়নবকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান তার স্বামী শাহিন আহমদ। আশ্রয়কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার প্রসব বেদনা ওঠে ও শুক্রবার সকালে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। বর্তমানে মা ও ছেলে দু’জনই সুস্থ রয়েছেন।

এ ব্যাপারে শাহীন আহমদ জানান, পরিবার নিয়ে বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ করেই ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করে। তখন আমি উপায়ন্তর না পেয়ে কলেজ কেন্দ্রে উঠে পড়ি। এ সময় আমার শ্বশুর শাশুড়িও সঙ্গে ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি প্রথম কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছি। আমার তিনটি ছেলে সন্তান আছে। কন্যা সন্তানের নাম রাখার ব্যাপারে শাহিন বলেন, নাম রাখা এখনো হয়নি। উদ্দেশ্য বাড়িতে গিয়ে হুজুর এনে দোয়া কালাম এর মাধ্যমে সুন্দর একটি নাম রাখা।

এদিকে উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২য় তলা (বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে) একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। কন্যা সন্তানের জননী বেড়িবিল গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী আঙ্গুরা বেগম।

এ ব্যাপারে রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সিহাব জানান, আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য, ইউনিয়নবাসী অন্ত্যন্ত আনন্দিত। মা ও শিশু কন্যা সুস্থ আছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নবজাতক এই শিশুটির জন্য কিছুটা হলেও দায়িত্ব নিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদ হতে প্রতি মাসে এই শিশুর ভরণ পোষণের জন্য এক হাজার টাকা করে তার মাকে দেওয়া হবে এবং তা চলবে তার লেখাপড়া করার আগ পর্যন্ত। নবজাতক এই শিশুর লেখাপড়াকালীন সময়ে বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি জানান। 

তিনি জানান, পরবর্তীতে এই পরিষদের চেয়ারম্যান যিনি হবেন, তিনিও এই নিয়ম বাস্তবায়নে চলমান রাখতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।