ছাত্রলীগের কমিটিতে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা


ডেস্ক রিপোর্ট : বরগুনার তালতলী উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেয়েছে ছয় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

গত ১৬ জুলাই তালতলী উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসাইন।

কমিটিতে সরোয়ার হোসেন স্বপনকে সভাপতি এবং এইচএম মিনহাজুল আবেদিন মিঠুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া ১৫২ জন সদস্যকে কমিটিতে রাখা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্কুল শিক্ষার্থীদের পদে রাখা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বিবাহিতদের কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

জেলা ছাত্রলীগের দেওয়া তথ্য মতে, এ কমিটির সহ সম্পাদক পদে আছেন সানজিদ মাহমুদ সিফাত, রিয়ান জোমাদ্দার ও মো. হাসান হাওলাদার। এদের মধ্যে সিফাত ও রিয়ান তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। সানজিদ মাহমুদ সিফাত অষ্টম শ্রেণির, রিয়ান জোমাদ্দার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। হাসান হাওলাদার নামে আরেক শিক্ষার্থী তালতলী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। 


এছাড়াও কমিটির উপ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের পদ পাওয়া আরাফাত জোমাদ্দার তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র। অপরদিকে সহ সম্পাদক পদ পাওয়া মো. রনি খান ও ইমরান খান গত বছর এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছেন৷ বর্তমানে তারা কড়ইবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এবিষয়ে তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল সরকার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘রিয়ান, সিফাত এবং আরাফাত আমাদের স্কুলের ষষ্ঠ, অষ্টম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তারা কোনো পদ পেয়েছে কিনা, এ বিষয়ে কিছুই আমার জানা নেই।’ 

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বেপারী বলেন বলেন, আওয়ামী লীগের খারাপ সময়ে ছাত্রলীগের কান্ডারী হিসেবে রাজপথে আন্দোলন করা নেতারা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে কোন পদ পায়নি। এটি আসলেই দুঃখজনক একটি ঘটনা।

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক মুঠোফোনে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘১৭ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন ছিল। তাই তাড়াহুড়ো করে কমিটি দেওয়া হয়েছে। চার বছর আগে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল সরোয়ার হোসেন স্বপনকে সভাপতি ও মিনহাজুল আবেদিন মিঠুকে সম্পাদক করে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি দিয়েছিলাম। তবে উপজেলা ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম চার বছরেও দিতে পারেনি। তাই তাড়াহুড়ো করেএই কমিটি দেওয়া হয়েছে।’