রেলসেতুতে টিকটক করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলো গোলাপগঞ্জের দুই কিশোর


জি ভয়েস ডেস্ক : গতকাল শুক্রবার ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশন অতিক্রম করেছে। কয়েক সেকেন্ড পর ট্রেনটি ফেঞ্চুগঞ্জ রেলসেতুতে উঠবে। তখন সেতুতে টিকটক ভিডিও করতে থাকা দুই কিশোর ট্রেন আসছে দেখেও সরছেন না। সেতুতে ট্রেনটি উঠার সাথে সাথে ট্রেনচালক হর্ন বাজালে তাতে টনক নড়ে ওই দুই কিশোরের। কিশোরেরা দৌঁড়ে সেতুর মধ্যভাগে সেফটি পিঞ্জিরায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রেনচালক হর্ন আবার দিচ্ছেন। অবশেষে দুই কিশোর দৌঁড়ে সেফটি পিঞ্জিরায় পৌঁছালেন। এ যেন মৃত্যু থেকে বেঁচে ফেরা। কয়েকটি সেকেন্ডে ঘটতে পারতো দুর্ঘটনা। 

জানা যায়, ওই দুই কিশোরের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বরে। শুক্রবারে অবসর থাকার কারণে দু’জন টিকটক ভিডিও করার জন্য ফেঞ্চুগঞ্জ রেলসেতুতে এসেছেন। দুজন মাধ্যমিকে পড়ুয়া ছাত্র। একজন আবিব হোসেন(১৬) ও আরেকজন নয়ন আহমদ(১৫)। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দুজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এরকম কোনো ভিডিও করবেন না বলে জানান তারা। 

ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বিকালে ফেঞ্চুগঞ্জ রেলসেতু এলাকায় অনেক কিশোর ও তরুণ ভিড় করেন। কিশোর ও তরুণেরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুর মধ্যভাগে গিয়ে মোবাইলে সেলফি তুলেন ও ভিডিও ধারণ করেন। অনেক সময় ট্রেন আসলেও তারা সরেন না। যখন সেতুতে ট্রেন উঠে তখন দৌঁড়ে অনেকে সেতুর মধ্যভাগে সেফটি পিঞ্জিরায় যান। আবার অনেকে দৌঁড়ে সেতু পার হয়ে সেতু থেকে নেমে পড়েন। কিশোর ও তরুণদের ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও করার নেশায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। 

কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময় রেলসেতুতে উঠে ছেলেরা বিভিন্নভাবে নাচানাচি, গান করে। তা ভিডিও ধারণ করে আরেকজন। কাউকে সেতুর মধ্যভাগে যেতে নিষেধ করলে, সে উল্টো বাজে কথা বলে। নিষেধ করলে আজকালের ছেলেরা তা কর্ণপাত করেন না। দুর্ঘটনা না ঘটলে মনে হয়, টিকটক ভিডিও করা ও সেলফি উঠতে আসা ছেলেদের টনক নড়বে না। 

মাইজগাঁও রেলস্টেশন মাস্টার মনির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে জনসাধারণের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। রেলসেতুতে মোবাইল দিয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও উঠতি বয়সী কিশোরদের মধ্যে আজকাল টিকটক ভিডিও করার প্রবণতা বেশি।