শাবিপ্রবি আন্দোলন : ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও হয়নি দাবি পূরণ !


স্টাফ রিপোর্ট : শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়ন, অন্যায়ভাবে কেড়ে নেয়া কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে গত ১১ দিন যাবত অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আগের আন্দোলনে পুলিশি হামলায় আহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী সজল কুন্ডু।

এতে সজলের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

রোববার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে করে সংহতি জানান শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মুহাইমিনুল বাশার রাজ, সজল কুন্ডু, শাহরিয়ার আবেদিন, নওরিন, হালিমা খানম, সাবরিনা শাহরিন রশিদ এবং রাক্তিম সাদমান অংশ নেন।

তারা বলেন, “১৬ জানুয়ারির হামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সজল কুন্ডুকে ৯ম গ্রেডের একটি চাকরি এবং নগদ ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সজল এখনো শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি, ক্ষতিপূরণ বা চাকরি কোনোটাই পাননি। উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার পরিচালিত ক্যাফেটেরিয়াটি কেড়ে নেয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হিমশিম খাওয়া সজল।

ফলে চরম অর্থ সংকটে পড়েছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম কিছুদিন সরকারী তত্ত্বাবধানে সজলের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও গত তিনমাস ধরে তাও বন্ধ রয়েছে। এতে বার বার সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার পরও সজলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হচ্ছে না।

‍‍তাই সজল নিজে উদ্যোগ নিয়ে বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নামে করা হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়ন, অন্যায়ভাবে কেড়ে নেয়া কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিতে গত ১১ দিন যাবত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান শুরু করেছেন।

আমরা শাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা সজলের দাবিগুলোর সংহতি ও একাত্মতা পোষণ করছি। অবিলম্বে তার কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিয়ে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার চাকরি ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।”


তারা বলেন, “প্রায় আটমাস আগে এইদিনে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের প্রত্যক্ষ মদদে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।


শরীরে শটগানের ধাতব শ্রাপনেল, সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারসহ ভয়াল সেইদিনের দুঃসহ স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন বহু শিক্ষার্থী । ১৬ জানুয়ারির ওই নারকীয় ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন ও আমরণ অনশনের একপর্যায়ে ঢাকা থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এবং ইয়াসমিন হক ম্যাম আমাদের মাঝে আসেন।

তাঁরা বলেছিলেন সরকারের উপরমহলের অনুরোধে তারা আন্দোলনস্থলে এসেছেন এবং আমাদের সমস্ত দাবি মেনে নেয়া হবে এমন নিশ্চয়তা তাদের দেয়া হয়েছে। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে দীর্ঘ ১৬৩ ঘন্টা যাবত অনশনরত ২৭ জন শিক্ষার্থী অনশন থেকে সরে আসেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আমাদের সাথে আলোচনার জন্য সিলেটে আসেন। তাদের সঙ্গে আমাদের ৫টি দাবি এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে ৮দফা প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী তাঁর এখতিয়ারভুক্ত দাবি ও প্রস্তাবনাসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তাঁর এখতিয়ারভুক্ত নয় এমন দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের উচ্চমহলকে অবহিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কিন্তু বর্তমানে আটমাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলোর এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।