শীতের শুরুতে মুখরিত মৌলভীবাজারের বাইক্কাবিল

বাইক্কাবিল, শ্রীমঙ্গল।  ছবি : জি ভয়েস টোয়েন্টিফোর। 

আবুজার বাবলা, শ্রীমঙ্গল : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শীত আসতে না আসতে বাইক্কা বিলে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। কেবল বাইক্কা বিলই না শ্রীমঙ্গলের হাওর, বিল, জলাশয়, চা-বাগান লেক-এ আসতে শুরু করেছে না প্রজাতির পরিযায়ী পাখি।

শীত প্রধান দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসছে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে। সাইপ্রাসের মতো দেশে শীত তীব্র হয়ে উঠলে সে দেশের পাখিরা এ দেশের আতিথিয়তা গ্রহন করতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে আসে আমাদের দেশে। বরাবরের মতো এবারও অতিথি পাখিরা আশ্রয় নিচ্ছে শ্রীমঙ্গলের সংরক্ষিত মৎস্য অভয়ারণ্য বাইক্কা বিলের বুকে। শীতকালে ভিনদেশি বিচিত্রসব বর্ণ ও প্রজাতির এসব অতিথি পাখিদের কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠে বিলের প্রাঙ্গন। তখন পাখি পিয়াসি মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠে বাইক্কা বিল। তাই অতিথি পাখিদের দেখতে বাইক্কা বিলে ইতোমধ্যে উৎসুক মানুষের আগমন শুরু হয়ে গেছে শীতের শুরুতেই। কার্তিকের শেষে শ্রীমঙ্গলে ধীওে ধীরে শীত জেঁকে বসতে শুরু করেছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহান্তে শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতিতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশকে বলা হয় রূপের রাণী। এদেশের নদী, হাওর, ছড়া এবং বিল, বাংলাদেশের রূপবৈচিত্রে যোগ করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক অনন্য মাত্রা। বাংলাদেশের অসংখ্য বিলের মধ্যে অন্যতম  শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাইক্কা বিল।

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২শ’ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে চা-সমৃদ্ধ শহর শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের পূর্বদিকের প্রায় ১শ’ হেক্টর আয়তন জুড়ে এই জলাশয়ের অবস্থান। শোল, বোয়াল, কৈ, টেংরা, মাগুর, পুঁটি, ভেদা, মোখা, খলিশা, তিঁত চাদাসহ দেশী প্রজাতির নানা মাছ এখানে বংশবৃদ্ধি করে পুরো হাওরে ছড়িয়ে রয়েছে। 

এই বিল পাখি আর মাছের জন্যেই শুধু নয়, অন্যান্য অনেক জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্যও একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থল। এটি একটি নয়নাভিরাম জলাভূমি যেখানে হাজারো শাপলা আর পদ্ম ফুল ফোটে। নানা প্রজাতি আর বর্ণের পাখির কলকাকলী, নীল আকাশের দিগন্তজুড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিদের ওড়াউড়ি আর বিলের স্বচ্ছ পানিতে মাছের লুকোচুরি খেলা চলে দিনভর। সকাল-সন্ধ্যা রঙিন ফড়িংয়ের ওড়াউড়ি। পানিতে নানা প্রজাতির পানকৌরি হাঁসের জলকেলি, হাজারো শাপলা আর পদ্মফুলের মেলা বিলটির সৌন্দর্য ফুঁটে তুলে। দূর থেকে পানিতে সাদা বকের এক পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে মাছ শিকার কিংবা শুকনো ডালে বসে মাছরাঙার মাছ ধরার দৃশ্য এক অনন্য সুন্দর দৃশ্য হয়ে ধরা দেয় পর্যটকদের ক্যামেরায়। সবমিলে শীতের সময় পরিযায়ী পাখির এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয় এই বিল। পুরো শীত মৌসুমজুড়ে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর থাকে বিল।

বাইক্কা বিলে নানা প্রজাতির পাখিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পানকৌড়ি, রাঙ্গাবক, কানিবক, গোবক, ধলাবক, ধুপনিবক পালাসীকুড়া ঈগল, দলপিপি, নেউপিপি, পান মুরগি, বেগুনি কালেম, কালোমাথা কাস্তেচরা, শঙ্খচিল, ইত্যাদি।
এক তথ্য মতে, শীতের কুয়াশা ভেদ করে অতিথি হয়ে আসা নানা প্রজাতির পাখিদের মধ্যে গেওয়ালা বাটান, মেটে মাথা চিটি, কালাপঙ্খ ঠেঙ্গী, ধলা বালিহাঁস, পাতিসরালী, রাজসরালী, মরচেরং, ভূতিহাঁস, গিরিয়াহাঁস, ল্যাঙ্গাহাঁস, গুটি ঈগলসহ নাম না জানা হাজারো পাখিদের বাইক্কা বিলের আতিথিয়তা গ্রহন করতে এখানে আগমন ঘটে। তবে বাইক্কা বিল ঋতুভেদে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চেও শেষ সময় পর্যন্ত সময়টা বাইক্কা বিল ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়। এ দিনগুলোতে এখানে অসংখ্য পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।

বিলের বুনো বাসিন্দা, পাখিদের গতিবিধি আর বিলের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সেখানে তৈরি হয়েছে একটি সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।