আত্মহত্যা কীভাবে স্থায়ী সমাধান হয়?


পরিবার থেকে শুরু করে একদম আপনজনসহ পরিচিত, অপরিচিত সবাই আপনাকে ঠকিয়েছে! শুধু তাই নয়, বিনিময়ে আপনি তাঁদের নিকট থেকে অবহেলা, অকৃতজ্ঞতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা উপহার পেয়েছেন। তাই বলে আপনি আত্মহত্যা করতে হবে এমন তো কোনো কথা ছিলো না!

জীবনে যাঁরা ঠকেছেন : আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে যা মনে হয়-বিশেষ করে যাঁরা একটু সহজ সরল, উদার ও আন্তরিক মন মানসিকতার হোন, তাঁরাই অন্যদের কাছে সবসময় ঠকেছেন। আসলে এই ঠকে যাওয়াটা অনেক গর্বের, এই ঠকে যাওয়াটা অনেক অহংকারের! কারণ আপনি যদি তাঁদের মত স্বার্থান্ধ, লোভী, চোর বাটপার, অন্যায়কারী ও নিষ্ঠুর মন মানসিকতার হতেন, তবে কেউ কি আপনাকে ঠকাতে পারতো? আপনি তখন ঠিকই তাদের খারাপ ধান্ধা ও চলাফেরা ও টের পেয়ে যেতেন।

বুঝালাম আপনি হয়তো নিজের ব্যক্তিগত সকল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সর্বদা পরিবারের জন্যে করে গেছেন, পরিবার নিয়ে ভেবেছেন, এমনকি বাহিরের মানুষের জন্যেও অনেক করেছেন, ভালো কথা। এই যে বিশাল ত্যাগস্বীকার করলেন, এটা তো সবার ভাগ্যে জুটে না! সবাই চাইলেও করতে পারে না বা পারবেও না। তা করতে হলে অনেক বড় এক উদার মন মানসিকতার প্রয়োজন হয়।

আর সেদিন ভিডিও দেখে কিছুটা অনুভব করতে পারছিলাম আপনার হয়তো সেই মন মানসিকতা ছিল বলেই আপনি জীবনে এত কষ্ট পেয়েছেন, আঘাত পেয়েছেন। কিন্তু আত্মহত্যা তো আপনার এতদিনের সকল যশ-খ্যাতি মুহূর্তেই ধবংস করে দিলো! মৃত্যুর পূর্বে একটিবারও সেটা কতটুকু ভালো/মন্দ হবে, তা নিয়ে ভাবার বিষয় মনে করেন নি কেন আপনি?

মূলকথা : আপনি আমি যে বা যাঁরা জীবনে আপনজন কিংবা পরিচিত বন্ধু বান্ধবের জন্যে যদি তাঁদেরকে ভালোবেসে তাঁদের জন্য ভালোকিছু করতে চাই, তবে সসবসময় আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে -ঠিকই তাঁদের জন্য ভালো কাজ করছি /করতে যাচ্ছি কিন্তু বিনিময়ে কষ্ট, অবহেলা, অকৃতজ্ঞতাসহ অনেক দোষারোপ তাঁরা  করতে পারে বা করবে এবং আমাদেরকেও তা প্রতিনিয়ত শুনতে হবে, মেনে নিতে হবে সবকিছু হাসিমুখে। তখন ওঁদের জন্য ভালো কাজ করা যাবে নতুবা কেউ জীবনে কখনোওই কারো জন্যে ভালোকিছু করতে পারবে না। তাছাড়া, এই দোষারোপ গুলো বর্তমান দুনিয়ায় অনেকটা ন্যাচারালে রূপ নিয়েছে! এতে অবাক হবার মত তেমন কিছু নেই!

যদি আপনি বিষয়টি আপনার মাথায় ভালোভাবে এটা সেট করতে না পারেন, তবে আমি বলবো-কারও জন্যে কখনোওই কোনো উপকার করতে যাবেন না, কারণ আপনি যতই উপকার করুন না কেন, যতই তাঁদের জন্য দু:খ-দুর্দশায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন না কেন, তাঁরা ঠিকই বেশিরভাগ সময় আপনাকে সেই আঘাত/কষ্টগুলো সময়মত উপহার দেবেই, দেবে।

আত্মহত্যা কখনওই কারো জন্যে স্থায়ী কোনো সমাধান হতে পারে না। স্থায়ী সমাধানের জন্যে দরকার-ধৈর্য, সবর ও জীবনের সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবকে ইতিবাচক চিন্তায় পরিণত করে মনে অনেক শক্তি ও প্রশান্তি জাগ্রত করা। তখন হয়তো অনেকটাই সমাধান হবে।

শেখ রুহেল
প্রভাষক : ইংরেজি বিভাগ