হবিগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে ৯২ চিকিৎসকের পদ শূন্য, ভোগান্তিতে রোগীরা


ডেস্ক রিপোর্ট : হবিগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে ৯২ চিকিৎসকের পদ শূন্য, ভোগান্তিতে রোগীরা হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞসহ ডাক্তারের ৯২টি এবং নার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও টেকনিশিয়ানের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এই সুযোগে জমজমাট হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকের ব্যবসা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ৯০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ছয়টি দন্ত ক্লিনিক রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল, সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১৮টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞসহ ডাক্তারের মোট মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ১৭৪। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা ৮২। ১৯৯৫ সালে উদ্বোধন করা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বর্তমানে ২৫০-এ উন্নীত করা হয়। বর্তমানে এই হাসপাতালে ডাক্তারের মোট ৫৬টি পদের মধ্যে ৩২টি পদই শূন্য। শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইনি, ইএনটি, ইউরোলজি, নেফরোলজি, সার্জারি, অর্থোসার্জারি, শিশু, চর্ম ও যৌন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং চক্ষু, প্যাথলজি, মেডিসিন, গাইনি, কার্ডিওলজি, মানসিক, গ্যাস্ট্রোলজি, অ্যানেসথেসিস্টের জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ। ফলে জেলা সদর হাসপাতালে আগত রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবাবঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে কিংবা সিলেট ও ঢাকায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। সূত্রে আরো জানা যায়, বানিয়াচঙ্গ ও লাখাইয়ে দুটি করে, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, মাধবপুর ও চুনারুঘাটে একটি করে এক্সরে মেশিন নষ্ট। হবিগঞ্জ সদর, বানিয়াচঙ্গ, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, লাখাইয় ও মাধবপুরে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স অচল হয়ে আছে। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিত্সক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য থাকা এবং যন্ত্রাংশ অচল হয়ে পড়ায় চিকিত্সাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। 

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিত্সক মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকদের মধ্যে দুই জন শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে, এক জন জেলা কারাগারে এবং এক জন প্রেষণে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। রেডিওলজিস্টও বিদেশে ছুটিতে রয়েছেন। হাসপাতালের নবনির্মিত বহুতল ভবনের নিচতলায় কোভিড সাসপেক্টসহ আইসোলেশন ওয়ার্ড, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম এবং ষষ্ঠ তলায় কোভিড ওয়ার্ড চালু থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে ৫০০-৬০০ রোগী চিকিত্সার জন্য এলেও ৩০০-৪০০ রোগীকে ভর্তি করা হয়। অনেক সময় এসব রোগীর স্থান সংকুলান সম্ভব হয় না। 

এ ব্যাপারে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল জানান, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের সেবার মান যাতে উন্নত হয়, সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকের কার্যক্রমের ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।


সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক