জৈন্তাপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ, ৮ দিনেও মেলেনি সন্ধান


ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল থেকে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক স্কুল ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পরও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ ওই ছাত্রীর নাম মাহফুজা জামান রিহা (১৫)। সে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঠাকুরের মাটি (পশ্চিম চটি) গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী নুরুজ্জামান এর মেয়ে এবং জালালাবাদ ক্যান্টলমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

আটদিন ধরে কোন খোঁজ না পেয়ে পরিবারে উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজ তরুণীর সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে ও স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি।

এ ঘটনায় তার মা আফিয়া আক্তার গত (১১ মে) জৈন্তাপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এতে এক পরিবারের ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।মামলায় আসামিরা হলেন- এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা আফতাবুল হক বাবুলের ছেলে মো. সোহানুর রহমান সোহান (২২), আফতাবুল হক বাবুল (৪৮) ও আফতাবুল হকের স্ত্রী খাদিজা আক্তার সুমি (৪১)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জালালাবাদ ক্যান্টলমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী মাহফুজা জামান রিহা। সে গত সোমবার (৯ মে) অনুমান বিকেল ৩ ঘটিকায় নিয়মিত কোচিং ক্লাসে যাওয়ার উদ্দেশ্য জৈন্তাপুর উপজেলার ঘাটেরচটি সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে চিকনাগুল মাদ্রাসা গেইট সম্মুখে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলো।

ঘটনার তারিখ ও সময়ের পূর্বে উৎপেতে থাকা বিবাদী সোহানুর রহমান সোহান ও তার সহযোগী অজ্ঞাত আরো ৩ থেকে ৪ জন একটি প্রাইভেট কার গাড়ি নিয়ে বর্ণিত ঘটনাস্থল হতে ভিকটিমকে টানা হেছড়া করে গাড়িতে তুলে অপহরণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিম মাহফুজা জামান রিহা এসময় আত্মচিৎকার করে। 

চিৎকার শুনে পথচারী লোকজন উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিবাদী সোহানুর রহমান সোহানের সাথে থাকা অজ্ঞাত বিবাদীগনের সহায়তায় তারা দ্রুত ঘটনা স্থল হতে প্রাইভেট কার যোগে পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় ভিকটিমের মা আফিয়া আক্তার জানান, আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লালন পালন করেছি। পড়ালেখা করাচ্ছি আমার অবুঝ মেয়েকে এভাবে অপরাধীরা অপহরণ করে আমাদের আশা ভরসা স্বপ্ন ভেঙ্গে দিবে স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার মেয়ে মাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ে। আমি আমার মেয়েকে অক্ষত সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট অনুরোধ করছি আমার মেয়েকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিন।

এবিষয়ে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহিদ মিয়া জানান, অভিযোগ পেয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা নিখোঁজ ভিকটিমকে উদ্ধারে কাজ করছি। আশাবাদী শীঘ্রীই তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হব। এ ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।