সিলেটে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা ক্যামেরার ৯০ ভাগই অকেজো


ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট নগরীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিটি করপোরেশন স্থাপন করে তিন শতাধিক সিসি ক্যামেরা এবং আইপি ক্যামেরা। দু'বছরের মধ্যে এর ৯০ ভাগই অকেজো হয়ে গেছে। সিটি মেয়রের দাবি, অপরাধচক্র পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরাগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন বলছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বন্ধ ক্যামেরাগুলো সচল করা দরকার।

সিলেট নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২০ সালের প্রথম দিকে ২৩টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। দু'বছর যেতে না যেতেই দু'টি ছাড়া সব ক'টি নষ্ট হয়ে যায়।

সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ছয়ফুল আমিন বাকেরের দাবি, অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট করেছে। তিনি আরও বলেন, যারা ক্রাইম করে তারা জানে কোন লাইনটা নষ্ট আছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ওদের দ্বারাও নষ্ট হয়।

এভাবে নগরীর ১০টি ওয়ার্ডে দু’শতাধিক সিসি ক্যামেরার ৯০ ভাগই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে, ডিজিটাল সিলেট সিটি- প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সিলেট সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১১০টি উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ সংবলিত আইপি ক্যামেরা বসানো হয় গত বছরের প্রথমে। ক্যামেরাগুলো বসানোর পর অপরাধীদের চিহ্নিতে সাফল্য আসে আশাব্যঞ্জক।

সিলেট এসএমপি উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, আইপি ক্যামেরার বদৌলতে আমরা অনেক বড় বড় উদ্ধার অভিযান করেছি। এ ছাড়া বড় বড় ছিনতাই গ্যাংকে ধরতে পেরেছি। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধীদের ধরতে সক্ষম হয়েছি।

অপরাধ দমন ও অল্প সময়ে অপরাধী শনাক্তে সিসি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নিজাম উদ্দিন।

অন্যদিকে, সিটি মেয়র নষ্ট সব সিসি ক্যামেরা শিগিগিরই সচলের আশ্বাস দিলেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,  এটা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নিশ্চয় এর পেছনে কোনো বড় কারণ আছে। তিনি আরও বলেন, নিশ্চয় এত ক্যামেরা এক সঙ্গে নষ্ট হতে পারে না।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগ, ডিশ ও ইন্টারনেট লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের সময় অনেক জায়গায় সিসি ক্যামেরার লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা নষ্ট হয়ে গেলে তা আর সচল করা হয় না।

সূত্র : সময় টিভি