মৌলভীবাজার হয়ে রোহিঙ্গারা দেশে ঢুকছে ১৫-২০ হাজার টাকায়


ডেস্ক রিপোর্ট : করোনা সংকটের শুরু থেকে কুলাউড়ার চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে নাগরিকদের বৈধভাবে যাওয়া-আসা বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলার আলীনগর-মুড়াইছড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ঠিকই দুই দেশের নাগরিকরা আসা-যাওয়া করছে। বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এই সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। নতুন করে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় স্থানীয় একাধিক চক্র তাদের সীমান্ত পার করে আনছে বলে অভিযোগ। অনুপ্রবেশ করা এসব রোহিঙ্গার লক্ষ্য কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির।

সবশেষ গত ১২ মে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে নারী-শিশুসহ ১৮ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে ২০২১ সালের ১৭ জুলাই জেলা সদরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ২১ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সীমান্ত দিয়ে নিয়মিতই রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করে। স্থানীয় চোরাকারবারিদের একাধিক চক্র এর সঙ্গে জড়িত। ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আনার পাশাপাশি বেশি টাকা পাওয়ায় এখন তারা রোহিঙ্গাদেরও দেশে ঢোকাচ্ছে।

উপজেলার কর্মধা ও পৃথ্বিমপাশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা ঘুরে জানা যায়, এই দুই সীমান্তের ১৮৪২-১৮৫১ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন পণ্য ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে আসছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা অবৈধভাবে যাওয়া-আসা করলেও এখন নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তাঁরা জানান, অর্থের বিনিময়ে বিজিবির তালিকাভুক্ত ও এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারিরা এর সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে শিকড়িয়া সীমান্তের ১৮৪৬ নম্বর সীমানা পিলার এলাকায় চোরাচালান ও মানব পাচারকারীরা বেশ সক্রিয়।

পাচারকারীরা মাদক ও রোহিঙ্গাদের স্থানীয় রবিরবাজার দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছে।অনুসন্ধান ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এর সঙ্গে বিজিবির তালিকাভুক্তসহ ১০-১৫ চোরাকারবারি ও দালাল জড়িত। তারা সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা এবং ভোর ৫ট থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের দায়িত্ব বদলের (শিফটিং ডিউটি) সুযোগ কাজে লাগায়। ওই সময় কাঁটাতারের বেড়ার ওপর কাঠ এবং উভয় পাশে মই লাগিয়ে মানুষ পারাপার এবং রোহিঙ্গাদের দেশে ঢোকানো হয়। একই পদ্ধতিতে ভারত থেকে গরুসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আনা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, রোহিঙ্গা পাচার চক্রে জড়িত পৃথ্বিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া গ্রামের আব্দুস সত্তারের ছেলে কালাম, সিদ্দেক আলীর ছেলে আরজদ, গৌছ আলীর ছেলে মাছুম, আমুলী গ্রামের সুমন, জসিম, আশিক, আলীনগর গ্রামের আক্তার, জায়েদ, ধলিয়া গ্রামের আহাদ আলী, শামীম, জুনেদ, তাজুল, দশটেকি গ্রামের জসিমসহ আরও অনেকেই। তাদের মধ্যে কালাম, সুমন, জসিম বিজিবির তালিকাভুক্ত চিহ্নিত চোরাকারবারি। 

এদিকে এক বছরে আটক ৩৯ রোহিঙ্গা শিকড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের কথা জানালেও বিষয়টি অস্বীকার করেছে বিজিবি। তবে কুলাউড়ার সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বিজিবি। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৪৬ বিজিবি (শ্রীমঙ্গল) অধিনায়ক মিজানুর রহমান শিকদার গত ১৩ মে উপজেলার আলীনগর ও মুড়াইছড়া ক্যাম্প এলাকার জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও তথ্যদাতাদের নিয়ে পৃথক জরুরি সভা করেছেন।

তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তার জন্য অভিযুক্ত আমুলী গ্রামের সুমন বলেন, আমার জীবনে রোহিঙ্গা আনিনি। তবে মাঝেমধ্যে নাসির বিড়ি আনি। রোহিঙ্গা পাচারের সঙ্গে পশ্চিম গণকিয়া এলাকার শারমিন, তার ভাই মনাই ও গণকিয়া গ্রামের তোফেল জড়িত। ১৮৪৬ নম্বর সীমানা পিলারের ভারতীয় সেগুনটিলার পূর্ব দিক দিয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় রোহিঙ্গা প্রবেশ করে। 

তথ্য সূত্রে : সমকাল