গোলাপগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : কবিরাজের সহযোগীকে গ্রেপ্তারের দাবি

কবিরাজ সুহেল মিয়া। ছবি : সংগৃহীত।

নিজস্ব প্রতিবেদক : গোলাপগঞ্জের উত্তর ধারাবহর গ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত কবিরাজ সুহেল মিয়ার সহযোগী আমির হোসেনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ধর্ষণের শিকার নারীর মা। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন আমির হোসেন তার মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার মেয়ের সাথে ৫/৬ বছর পূর্বে গোলাপগঞ্জের মাসুক মিয়ার সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর তাদের সংসারে ৪ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকে মাসুকের সাথে আমার মেয়ের বনিবনা হচ্ছিল না। তাই আমার মেয়ে আমার বাড়িতেই থাকে। এক পর্যায়ে মাসুকের সাথে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও আমার নাতিকে মাসুক সুকৌশলে বুঝিয়ে সুজিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয়। আমার মেয়ে তার ছেলেকে আনতে গেলে মাসুক তাকে তাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আমার মেয়ে বিভিন্ন লোকমুখে জানতে পারে গোলাপগঞ্জের উত্তর ধারাবহর গ্রামে সুহেল মিয়া নামের একজন কবিরাজ আছে। যিনি তাবিজ কবজের মাধ্যমে আমার নাতিকে তার মায়ের কাছে এনে দিতে পারবেন। তাই সরল বিশ্বাসে আমার মেয়েটি গত ১ সেপ্টেম্বর সুহেল কবিরাজের বাড়িতে যায়। এসময় আরো রোগী থাকায় কবিরাজ সুহেল মিয়া আমার মেয়েকে বসে অপেক্ষা করতে বলে। কথামত সে কবিরাজের বসতঘরে অপেক্ষা করতে থাকে। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার দিকে সকল রোগী চলে যাওয়ার পর আরেকজন পুরুষ কবিরাজের ঘরে আসেন। এ সময় কবিরাজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়।

কবিরাজের এরুপ আচরণে আমার মেয়ে চিৎকার দিতে চাইলে কবিরাজ অপর লোকের সহযোগিতায় আমার মেয়ের হাত ও চোখ বেঁধে বিছানায় ফেলে দেয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে অন্য ব্যক্তি একই কায়দায় আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফেরার পর আমার মেয়েটি দেখতে পায় কবিরাজ সুহেল বসে আছে এবং তার সাথে কালো লম্বা করে হাত কাটা আরেকজন রয়েছে। পরে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং এ ঘটনার কথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। আমার মেয়ে কবিরাজের বাড়ি থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ বাজারে আসলে আমি তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু রাতে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি।

পরের দিন সকালে আমার মেয়েকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে যাই এবং ওসিসিতে ভর্তি করি। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালের ছাড়পত্র ও ওসিসির মামলার কাগজ নিয়ে এসে তাকে নিয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় যাই এবং আমার মেয়ে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় কবিরাজ সুহেল মিয়াকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ওই লোককেও আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে এবং অজ্ঞাত ব্যক্তির চেহারার আকৃতির সাথে মিল দেখে আমার মেয়ে চিনতে পেরেছে ওই লোকটি হল কবিরাজ সুহেল মিয়ার একই বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত ছুফান আলীর ছেলে আমির হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযুক্ত আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় নিরীহ কাউকে হয়রানি না করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।