স্বাধীনতার ৫১ বছরেও গোলাপগঞ্জের যে সড়কে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া

ছবি : সংগৃহীত 

সামিল হোসেন :  সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের কুশিয়ারা পাড়ের গ্রাম ঘাগুয়া। যে গ্রামে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার লোকের বসবাস।  গ্রামবাসীর একমাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা থাকায় গ্রামবাসীর জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। 

স্হানীয়দের অভিযোগ - দেশ স্বাধীন হওয়ার আজ ৫১ বছর। ডিজিটাল দেশের চারিদিকে উন্নয়ন হলেও আজ পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ সড়কের উন্নয়নে সুদৃষ্টি দেয়নি। তবে স্হানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আপত্তি থাকায় সড়কের কাজ হচ্ছে না। 

সরজমিনে কুশিয়ারা পাড়ের ঐ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় - দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার রাস্তাটির অর্ধ কিলোমিটার রাস্তা পাকা থাকলেও কাঁচা আছে বাকি সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক। ফলে পূর্বের মতো হালকা বৃষ্টিতে রাস্তায় হাটু সমান কাঁদা হয়ে থাকে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে একাকার। শুষ্ক বা বর্ষা মৌসুম হোক তাদের দুর্ভোগ নিয়েই চলাফেরা করতে হয়। তাদের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই। রাস্তা এতোটাই খারাপ যে ৪ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যায়। নতুবা বিকল্প পথ ধরে নদী পথে পাড়ি দিয়ে যেতে হয় গন্তব্য স্হলে।

এদিকে রাস্তা না থাকায় সিএনজি অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল চলে হেলেদুলে। সব চেয়ে বেশি কষ্ট হয় গর্ভবতী মহিলাদের। অনেকদিন গাড়ির ঝাঁকুনিতে রাস্তার মধ্যেই গর্ভবতী মহিলাদের সন্তান প্রসব হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। 

  • গ্রামের এক গৃহবধূ বলেন, 'দূর-দূরান্ত থেকে পাত্র-পাত্রী দেখতে এসে রাস্তার অবস্থা দেখে বিয়ে ভেঙে দেয়। রাস্তার কারণে গ্রামের যুব-যুবতীদের বিয়ে হচ্ছে না।' 

জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বসবাস কুশিয়ারা পাড়ের এ গ্রামটিতে। প্রায় ১৬শ ভোটার। ৩০ ভাগ প্রবাসী রয়েছেন এ গ্রামটিতে। ৭০ ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর। কৃষি কাজ করেই চলে তাদের সংসার। গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন এই রাস্তা। ২০১৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর ঘাগুয়া গ্রামের প্রধান রাস্তার অর্ধ কিলোমিটার কাজ করে। বাকি সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আপত্তি থাকার কারণে হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয়রা। বর্ষা মৌসুমে নদীর উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে রাস্তা ডুবিয়ে দেয় বলে আরও ৪ ফুট উঁচু করে দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে দিবে বলে জানান স্থানীয়রা। 

এদিকে এ গ্রামে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুইটি মাদ্রাসা রয়েছে। রাস্তার অভাবে ভাল মানের শিক্ষক পাওয়া যায়না। ফলে ভাল মানের শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে। অন্যদিকে প্রতি বছর কৃষি জমিতে উৎপাদিত ফসল ভাল দামে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারেন না কৃষকরা। ফলে তাদেরকে লোকসান দিয়েই ফসল বিক্রি করতে হয়।

অভি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন বলেন- ' শুধু মাত্র রাস্তার অভাবে পাশ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি কলেজে ভর্তি হয়েছি। শুধু আমি না রাস্তার অভাবে অভাবে নিজ উপজেলার বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কলেজে ভর্তি হতে হয়।'

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মঈন উদ্দিন বলেন- ‘এ গ্রাম থেকে আমরা ৫ জন মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়েছি। ৪ জন মারা গেছেন। এক মাত্র আমিই বেঁচে আছি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শেষ বয়সে এ রাস্তা পাঁকাকরণ দেখে যেতে চান তিনি।’ 

স্থানীয় ইউপি সদস্য শামিম আহমদ বলেন- ‘রাস্তার জন্য আমরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে রাস্তা ৪ ফুট উচু হলে কাজ হবে। আমি মনে করি এখানে ৪ ফুট উচু করার কোন দরকার নেই। এভাবেই রাস্তার কাজ হলে অন্তত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।’ 

ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ হাছিন আহমদ মিন্টু বলেন- ‘ঘাগুয়া এই রাস্তাটি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আপত্তি রয়েছে। ৪ ফুট উচু হলে রাস্তার কাজ হবে। তারপরও আমি সর্বাত্তক চেষ্টা করব ঘাগুয়াবাসীর দুর্ভোগ লাগবে রাস্তাটি পাঁকাকরণ যাতে হয়।’