শীতেও সিলেটে তীব্র লোডশেডিং


ডেস্ক রিপোর্ট : শীত মৌসুমেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছেননা সিলেটের বাসিন্দারা। শীতে বিদ্যুতের চাহিদা কমলেও হঠাৎ করে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা। গত তিন-চারদিন ধরে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রামপালসহ দেশের ৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় সোমবার থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না। এতে সিলেটে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে দুএকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

নগরের দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম আহমদ বলেন, ‘গত তিন-চারদিন ধরে দিনে ৪/৫ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। প্রতিবার এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। শীত মৌসুমে এমন লোডশোডিং আগে কখনো হয়নি।’

নগরের জল্লাপরাড় এলাকার ইলেট্রনিক পণ্য মেরামতকারী সোহাগ আহমদ বলেন, ‘গরমের সময়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় একেবারে মন্দা ছিল। এখন শীত মৌসুমেও শুরু হয়েছে লোডশেডিং। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কোনো কাজ করতে পারছিনা।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল ও ভোলার নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে সোমবার থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ২২ ডিসেম্বর থেকে ‘মাইনর মেইনটেন্যান্স’ কাজের জন্য পায়রা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রেও উৎপাদন বন্ধ আছে। ৭ জানুয়ারি থেকে ভেড়ামারা কেন্দ্র সংরক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রায় এক হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট বিভাগে পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ গ্রাহক রয়েছে। বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর সিলেট জেলার প্রায় ১১ লাখ গ্রাহকের দৈনিক চাহিদা আছে ১১০ থেকে ১২০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বুধবার সরবরাহ মিলেছে ৫৭ মেগাওয়াট। এ কারণে বেড়েছে লোডশেডিং।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন, ‘রামপালসহ দেশের ৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না। এতে লোডশেডিং বেড়েছে।’

তবে আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে বলে জানান তিনি।