গোলাপগঞ্জের কাঁশবনে ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড়

কাঁশবন। ছবি : জি ভয়েস২৪

সামিল হোসেন : ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতু পরিবর্তনের পালাবদলে আসে শরৎ। শরৎ আগমনের অন‌্যতম প্রতীক কাশফুল আর নীল আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো শুভ্র মেঘের ভেলা। যা যেকোন ঋতুর চেয়ে বর্ষা ও শরৎ তার স্নিগ্ধ রূপে মুগ্ধ করে প্রকৃতি প্রেমীদের। যার জন্য শরতকে বলা হয় ‘ঋতুর রানি’।

তবে কালের বিবর্তনে গ্রামীণ দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শরতের কাশফুল। যার ব‌্যতিক্রম নয় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা।

মূলত শরৎকাল এলেই গ্রামের নদী, ঝোপ, ঝাড়, রাস্তার আনাচে-কানাচে জেগে উঠে কাশগুচ্ছ । তখন সাদা ধবধবে কাশফুলের মন মাতানো হিল্লোল দোল দিয়ে যায় সবার মনে। 

সাদা মেঘের খুনসুটি আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের বাতাসে দোল খাওয়ার এমন দৃশ্য দেখা মিলে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জকিগঞ্জ রোডের ওয়াছিমা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে। 

আর এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রায়ই এখানে ভিড় জমাচ্ছেন আশেপাশের স্হানীয় তরুণরা। কেউবা আবার পড়ন্ত বিকালে আসছেন সপরিবার নিয়ে ঘুরতে।

ছবি : বাতাসে দুলছে কাঁশবনে কাশফুলগুলো।

ঘুরতে আসা জেবুল হাসান নামের একজন তরুণ বলেন, প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে দেখতে এবং এর সংস্পর্শ পেতে প্রায় সময়ই পর্যটকরা আসছেন এ স্থানে। কেউবা আবার ছবি তুলে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখে আজ আসলাম এই অপরূপ সৃষ্টিকে উপভোগ করতে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সিদ্দিক বলেন, এটা বলতে গেলে আমার বাড়ির পাশেই। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে উপভোগ করতে কয়েকদিন ধরে অনেকেই দেখতেছি আসতেছেন। তবে পড়ন্ত বিকালে অথবা ভোর সকালে আসলে এর আসল সৌন্দর্য টা উপভোগ করতে পারবেন।

কাঁশবনে ঘুরতে আসা হুমায়ুন কবির রুবেল নামের এক যুবক জানান, এই কাঁশবনটির কথা আমি জানতাম না। বন্ধুদের কাছ থেকে এর সৌন্দর্য্যের কথা শুনে আজ দেখতে এসেছি। কাঁশবনটি দেখে মন জুড়িয়ে গেছে।

মুন্না আহমদ নামের আরেক তরুণ জানান, করোনার কারণে এতদিন ঘরবন্দী ছিলাম। কাঁশবনটির কথা শুনে বন্ধুদের সাথে আজ এখানে চলে আসলাম। এসে খুবই ভালো লেগেছে।

জনি আহমদ জানান, সাদা আর সবুজের মিলনমেলা কাঁশবনটি ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতিই অন্যরকম। সাদা মেঘের সঙ্গে এ কাশফুলের সাদা রং মনকেও সাদা করে দেয়। শরৎ কাশবনকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে।

উল্লেখ, কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, ঔষধি গুণও রয়েছে। মানুষের পিত্তথলিতে পাথর, শরীরে কোথায় ফোড়ার সৃষ্টি হলে তার ব্যথা উপশমে কাশফুলের মূল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কাশ আমাদের পরিচিত উদ্ভিদ হলেও এর আদি নিবাস রোমানিয়ায়। এর ইংরেজি নাম ক্যাটকিন এবং বৈজ্ঞানিক নাম হলো স্যাকরারাম এসপোটেনিয়াম।