নিজেদের জমি নেই, তাই পুলিশের চাকরি হলো না আসপিয়ার


জি ভয়েস ডেস্ক : বরিশালে স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাই পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি না পাওয়ার শঙ্কায় আসপিয়া ইসলাম (কাজল) নামে এক নারী। চাকরিটা পেতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়েছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে। তবে পুলিশে চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী তার (আসপিয়া) স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তাকে কোন সুখবর দিতে পারেননি ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান।

চাকরিপ্রত্যাশী আসপিয়া ইসলাম (কাজল) জানান, তার দাদার বাড়ি ভোলা জেলায় হলেও শৈশব থেকেই মায়ের সাথে বসবাস করছেন বরিশালের হিজলা উপজেলার বড়জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের খুন্না-গোবিন্দপুর গ্রামে। বাবা সফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর মা, ৩ বোন ও এক ভাইকে নিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছেন তারা। মা অন্যের বাড়িতে এবং ভাইয়ের গার্মেন্টসে চাকরি করে যা আয় করেন তা দিয়েই তাদের সংসার চলে।

আসপিয়া জানান, হিজলা সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেছেন তিনি। গৎ সেপ্টেম্বরে বরিশাল জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে অনলাইনে আবেদন করেন আসপিয়া। গত ১৪, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর বরিশাল পুলিশ লাইনস এ অনুষ্ঠিত শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষা ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হলে ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৫ম স্থান অধিকার করেন আফপিয়া।

২৬ নভেম্বর বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনস হাসপাতালে আসপিয়া’র প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। সেখানেও উত্তীর্ণ হলে তাকে ২৯ নভেম্বর রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানেও কৃতকার্য হন আসপিয়া।

নিয়োগের ৭টি স্তরে অতিক্রম করে আসপিয়া প্রথমবারের মত জানতে পারেন তাদের কোনো জমি না থাকায় তার চাকরিটা হচ্ছে না। তাই তিনি প্রথমে ডিআইজি কার্যালয়ে, পরে পুলিশ লাইনসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোন সুখবর পাননি।

এ অবস্থায় নিজেদের কোন জমি না থাকলেও যোগ্যতার বিবেচনায় তাকে পুলিশে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহ কামনা করছেন আসপিয়া।

আসপিয়া’র ব্যাপারে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, যেহেতু তিনি সাতটি স্তর পাস করেছেন। আমরা তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথেই দেখেছি। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, এরই মধ্যে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আসপিয়ার বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তার স্থায়ী ঠিকানার জন্য আগামী প্রকল্পের অর্থ থেকে
একটি ঘর তাকে উপহার দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।