এবার পাঞ্জাবী কান্ডে তীব্র সমালোচনার মুখে গোয়াইনঘাটের ইউএনও


জি ভয়েস ডেস্ক: সিলেটের জাফলংয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে ফি গ্রহণ নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও চলছে সমালোচনা। বিশেষ করে গত ৪ মে টিকিট ফি'কে কন্দ্র করে পর্যটকদের উপর হামলার পর এই স্থানীয় ইউএনওর ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন সচেতন মানুষজন। কেউ কেউ নিজেদের প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, দেশের অন্য কোথাও উন্মুক্ত স্থানে রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা না হলেও জাফলংয়ে চাঁদাবাজির আশ্রয় নিয়েছে প্রশাসন। জাফলং কান্ডে সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতে  এবার গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপঢৌকন এর পাঞ্জাবি বিতরণ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। 

ইউএনও তাহমিলুর রহমান গত ঈদ উল ফিতরে, উপজেলা প্রশাসন, সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিব, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ, আওয়ামিলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা কর্মী ও ইউএনওর শুভাকাঙ্ক্ষী কতিপয় সাংবাদিকদের আড়ং ব্রান্ডের বেশ কিছু পাঞ্জাবী উপহার দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

এদের মধ্যে পশ্চিম আলীর গাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামিলীগ এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল ইউএনও কর্তৃক প্রেরিত পাঞ্জাবী গ্রহণ না করে আমেরিকায় চলেগেছেন এবং বাহক কে ফেরত দানের কথা বলেছে বলে প্রতিনিধির কাছে তথ্য দিয়েছেন। ঠিক একিইভাবে পাঞ্জাবী ফিরিয়ে দিয়েছেন ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামিলীগের অন্যেতম নেতা এম নিজাম উদ্দীন।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউএনও তাহমিলুর রহমান, গত ঈদে প্রায় ১০০০ পাঞ্জাবী বিতরণ করেছেন, প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামিলীগ সহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে।

জাফলং কান্ড ঘটার পর এটা নিয়ে এখন সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছেন। বিভিন্ন জন ইউএনও এর বার্ষিক আয় সম্পর্কে এবং উপহার বিতরণের টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে তিনি সবাইকে আড়ং ব্রান্ডের দামী পাঞ্জাবী উপহার দেবেন, উনার টাকার উৎস কি? মাসিক বেতন ও ঈদ বোনাসে এত কিছু করা অসম্ভব। 

জৈন্তিয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রপরিষদের পরিষদের সভাপতি মাহফুজুল কিবরিয়া তার ফেইসবুক টাইম লাইনে লিখেন " ইউএনওর আয়ের উৎস কি, তা খতিয়ে দেখা দরকার " কাওসার আহমদ রাহাত নামে একজন তার টাইম লাইনে লিখেন 

" ম‍্যানেজ কাহাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কি কি তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান! 

গেল ঈদুল ফিতরে ঈদ উপঢৌকন' হিসেবে এক হাজার পাঞ্জাবী বিতরণ করলেন গোয়াইনঘাটের ইউএনও- উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা, উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও পর্যটন স্পট জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে তার নিয়োজিত লাঠিয়াল ও কিছু দালালদের মাঝে প্রায় ১ হাজার পাঞ্জাবী বিতরণ করেছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার 'ঈদ উপঢৌকন' লেখা সম্বলিত প‍্যাকেটটি বিতরণ করেন তিনি নিজেই। তবে শ্রেণিবিদ্বেষ অনুযায়ী কয়েকজনকে তার সিএ ফোন করে উপহার নেয়ার অনুরোধ করেন। তবে ইউএনও' র এই উপহার প্রত‍্যাখান করে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও ২ জন ইউপি চেয়ারম্যান।  

সবাইকে ম‍্যানেজ করতে লাল কালারের আড়ং ব্র্যান্ডের এই এক হাজার পাঞ্জাবী রমজানের মাঝামাঝি সময়ে অর্ডার করেন বিতর্কিত এই ইউএনও। ২৫ রমজান সিলেটের আড়ং থেকে তার সিএ, গাড়ি ড্রাইভার এই পাঞ্জাবী সংগ্রহ করেন। ৩,৬৪৯/= টাকা দামের প্রতিটি পাঞ্জাবী আকর্ষণীয় ও কারুকাজ সম্বলিত বলে জানিয়েছেন আড়ংয়ের একজন কর্মকর্তা। 

সোস্যাল মিডিয়ার নেটিজেনরা সমালোচনা করে বলেন, উপহার দেয়া দোষের কিছু নয়, তবে প্রশ্ন হচ্ছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাসিক সেলারি কত?? ১০ লাখ টাকা যদি মাসিক সেলারি হয়, তবে ৩/৪ লাখ টাকা খরচ করে উপহার দিতেই পারেন তিনি !!! আর যদি তা না হয় তবে, কোন খাত থেকে তিনি এই টাকা পেলেন তার হিসেব জানারও অধিকার উপজেলার জনগণের আছে।" গোয়াইনঘাট উপজেলার ইউএনও এর আয় এবং ব্যাংকিং লেনদেন নিয়ে ও এবার প্রশ্ন উঠেছে । ফেইসবুকে সমালোচনার ঝড় তুলতেছে গোয়াইনঘাট এর বিভিন্ন মহল।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন শিহাব তার টাইম লাইনে লিখেন '

ম‍্যানেজ কাহাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কি কি তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান! 

গেল ঈদুল ফিতরে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা, উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও পর্যটন স্পট জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে তার নিয়োজিত লাঠিয়াল ও কিছু দালালদের মাঝে প্রায় ১ হাজার পাঞ্জাবী বিতরণ করেছেন। 

সিনিয়র সাংবাদিক মইনুল হক বুলবুল তার টাইম লাইনে লিখেন " জাফলং এর রামরাজত্ব-------পর্যটন উন্নয়ন তহবিল নামে সোনালী ব্যাংক গোয়াইনঘাট শাখায় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)'র যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত এই একাউন্টে (5614302000905) এখন আছে মাত্র ৫৬ হাজার টাকা!!! অথচ বিগত ৯ মাসে শুধুমাত্র জাফলং থেকেই ১০ টাকার টোকেন বাবদ আদায় করা হয়েছে কোটি টাকার উপরে। তবে এনআরবি ব‍্যাংক জাফলং শাখায় আরো একটি একাউন্ট রয়েছে। ঐ একাউন্টের বিষয়ে কোন তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া কাউকেই দেয়া হচ্ছে না। তবে ঐ একাউন্টে গত কয়েকদিনে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে জানিয়েছে একটি বিশ্বস্ত সুত্র। 

এদিকে সোনালী ব্যাংক গোয়াইনঘাট শাখার একাউন্ট থেকেও গত কয়েক মাসে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।" 

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক পাঞ্জাবী উপহার বিষয়ে সিলেট বারের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট লিয়াকত আলী বলেন, " ইউএন ও সাহেব হয়ত বা জাকাত হিসেবে সবাইকে পাঞ্জাবী দিয়েছেন। এটা তিনি ব্যাক্তিগতভাবে করতেই পারেন। তবে যদি রাষ্ট্রীয় অর্থ কিংবা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে করেন, এটা অনৈতিক এবং বেআইনী।" 

সিলেট জর্জকোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন " গোয়াইনঘাট এর ইউ এনও উনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা না বলার জন্য পাঞ্জাবী উপহার দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এটা সম্পুর্ণ অন্যায় ও বেআইনী।" তিনি এহেন কর্মকান্ডের জন্য ইউএন ওকে বিচারের মুখোমুখি ও অপসারণ দাবী করেন।

এই ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক, পশ্চিম আলীর গাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল বলেন " গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একজন দুর্নীতিবাজ অফিসার। তিনি পাঞ্জাবী উপহার দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করতে চান। কিন্তু আমি এই অন্যায় মেনে নিতে পারিনা।" 

বদরুল ইসলাম নামে আরেকজন তার টাইম লাইনে লিখেন গোয়াইনঘাটে নেতাকর্মীদের ঈদে প্রায় ১হাজার আড়ং পাঞ্জাবি উপহার! উপহার দাতা উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)।

মাহবুবুর রহমান সুমন নামে একজন লিখেন দীর্ঘ ১৪ বছর রাজনীতি করার পর কেও আজ পর্যন্ত একটা পাঞ্জাবি দিলো না।।

মাগার এই UNO আশার পরে উনার গ্রুপ টা না করে জীবনে মস্ত বড় ভূল করলাম।। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে আমি আড়ং এর পাঞ্জাবি পরি।।কিন্তু UNO এর ৩৫০০+/৳ এর পাঞ্জাবীর লোভটা থেকেই গেলো। আর এই কয়দিন যে বা যারা UNO এর দালালী করলেন,,তার কারন টাও পাইলাম।"

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম্বারে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই ফোন কেটে দেন তিনি। পরবর্তীতে বার বার ফোন দিলেও আর রিসিভ করেননি।

সূত্র : জৈন্তাবার্তা