গোলাপগঞ্জে ৬০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন


ডেস্ক রিপোর্ট : শিউলি ফুল ফুটেছে। সাদা কাশবন সেজেছে। চলছে শুভ্র শরতের স্নিগ্ধতা। প্রকৃতির এমন মুগ্ধ নিপুণতা জানান দেয় কিছুদিন পরই শরৎ দেবীর পূজো। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মন মাতানো কাশফুল আর শিউলির মাতাল গন্ধে জগত জননী মহামায়া আসছেন। হবে উৎসব আনন্দমুখরতা।

আগামী পঞ্চমী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। শিশির ভেজা দুর্বাঘাসের ওপর ঝরেপড়া বকুল ফুল কুড়ানোর সময়টাতে মাতৃবন্দনায় মিলিত হবেন মাতৃভক্ত সবাই। ইতোমধ্যে শিল্পীদের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণরূপে ফোটে ওঠেছে দৃষ্টিনন্দন অধিকাংশ প্রতিমা।

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা। সারাদেশের মতো সিলেটেও চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। এ কাজে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দেবী দুর্গা আসছেন অন্ধকার আচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে। ঢাক, ঢোল, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা।

ত্রিনয়নী দশভূজা দেবীর আসার ক্ষণে সনাতন হিন্দু ধর্মের মানুষরা মেতে উঠছেন আনন্দ-উল্লাসে। সকলখানেই পূজোর প্রস্তুতির আমেজ বেড়ে গেছে শতগুণ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মহাপঞ্চমীর মধ্যে দিয়ে শারদ উৎসব শুরু হবে।

বৈশ্বিক মহামারী ভয়াবহ করোনাভাইরাস-এর সংকটময় মুহূর্তেও সরকার কৃর্তক সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবার সিলেটে শারদীয় শ্রীশ্রীদুর্গা পূজা আনন্দ-উৎসব মুখরতায় পালনের জন্য ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার বর্ণিল সাজ-সজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ পুরোদমে চলছে। প্রতিমায় রং-তুলির বর্ণিল আঁচড় দিয়ে চলছেন শিল্পীরা। আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্পীরা অবিরাম কাজ করছেন। পূজোর যাবতীয় উপকরণ, পূজো, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডিপাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতী, ভজন কীর্ত্তন, আলোকসজ্জা ও ডেকোরেশনসহ নানান প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পূজা আয়োজনকারী প্রতিটি কমিটিগুলো ও পারিবারিক পূজা উদ্যোক্তারা এখন সর্বশেষ নান্দনিক সুন্দর আয়োজনের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শারদ উৎসব উপলক্ষে সিলেট নগরের বিপণীবিতানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সনাতন ধর্মের ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। সনাতন ধর্মের লোকজন নতুন পোশাক ক্রয় করতে এ মার্কেট ও মার্কেট ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সর্বত্রই এক সাজ সাজ রব পড়েছে। পূজো আসছে ভেবে সনাতন ধর্মের লোকজন আনন্দ প্লাবনে ভেসে বেড়াচ্ছেন।

এবার সিলেট জেলায় ৬০৬টি মণ্ডপে পূজা আয়োজিত হবে। তার মধ্যে সার্বজনীন ৫৫৭টি, পারিবারিক ৪৯টি পূজোর আয়োজন হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে জানা গেছে, সার্বজনীন আয়োজনে সিলেটের কতোয়ালী থানা এলাকায় সার্বজনীন ২৯টি, পারিবারিক ১১টি, জালালাবাদ থানা এলাকায় ১৬টি, পারিবারিক ৪টি। এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় ৩৮টি, পারিবারিক ১টি। শাহপরান থানা এলাকায় সার্বজনীন ৩৮টি, পারিবারিক ১টি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ১৩টি ও পারিবারিক ১টি। মোগলাবাজার এলাকায় ১৫টি। গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৫৭টি ও পারিবারিক ৩টি। বালাগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৩০টি ও পারিবারিক ২টি। কানাইঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৫টি। জৈন্তাপূর উপজেলায় সার্বজনীন ২০টি, পারিবারিক ২টি। বিশ্বনাথ উপজেলায় সার্বজনীন ২৪টি ও পারিবারিক ২টি। গোয়াইনঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৬টি। জকিগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৯৯টি। বিয়ানীবাজার উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৩৯টি, পারিবারিক ১৩টি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ২৫টি, পারিবারিক ১টি। ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৩৭টি। ওসমানীনগর উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ২৬টি ও পারিবারিক ৮টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়াদশমী নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবশ্যাটির নাম মহালয়া। এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সিলেট নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগরা। তার পাশাপাশি নগরীর মণ্ডপগুলো বর্ণিল সাজে সাজানোর ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা যায়। প্রতি বছর এই পূজাতে নগরে নতুন নতুন সাজ-সজ্জা দেখা চোখে পড়ে। সম্প্রীতির নগর সিলেটে হিন্দু হিন্দুধর্মালম্বীদের এই পূজাতে সকল ধর্মের মানুষকেই আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রবিবার অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র মহালয়া। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মহাপঞ্চমী, ১ অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী ও ৫ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী।

পূজোর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ বলেন, সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণ পূজা আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, জেনারেটর রাখা ও পরিদর্শন বই রাখার জন্য আমরা সবাইকে অনুরাধ করেছি। আশা রাখছি এবার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদ উৎসব আনন্দ-উল্লাসে পালিত হবে।

এবার দেবী দুর্গা আসছেন গজে। দেবী দুর্গা গমন করবেন নৌকায়। ৯ অক্টোবর রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ও ২৪ অক্টোবর সোমবার শ্রীশ্রী কালী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।