গোলাপগঞ্জে সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে সরকারি এমসি একাডেমি


স্টাফ রিপোর্ট : গোলাপগঞ্জে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বাড়লেও কমেছে পাশের হার। উপজেলার ৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ হাজার ১২৫জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৩ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৮১.২১%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৯ জন।

২০২১ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪১জন। মোট পাশের হার ছিল ৯৬.৮৩%। গত বছরের তুলনায় এবছর বেড়েছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা।

এবছর ফলাফলের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে উপজেলার এল.বি গ্রীণফ্লাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬জন শিক্ষার্থী। পাশের হার শতভাগ উপজেলার ৩৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে তলানীতে রয়েছে বি.এন.কে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪২জন। পাশের হার ৬০.৮৭%।

এদিকে ৪৪টি জিপিএ-৫ পেয়ে জিপিএ-৫ এর দিক দিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে সরকারি এম.সি একাডেমী মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। এই বিদ্যালয় থেকে ৩৪৬জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয় ৩১৮জন। পাশের হার ৯১.৯১%।

জিপিএ-৫ এর দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং এল.বি গ্রীণফ্লাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়। ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৩৫২জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩০২জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬জন। পাশের হার ৮৫.৮০%।

ফলাফলের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মকবুল আহমদ আইডিয়াল একাডেমি। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭২ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাশের হার ৯৪.৭৪%।

গোলাপগঞ্জ জামেয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১০৯জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৯৪জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪জন। পাশের হার ৮৬.২৪%।

সৈয়দা আদিবা হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৩জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৯জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৮০.৮২%।

মফজ্জিল আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭৭জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৩৪জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩জন। পাশের হার ৭৫.৭১%।

ভাদেশ^র সলিমা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১৩ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার ৮০.১৪%।

তাঁরা মিয়া খান ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী থেকে ৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৬৫ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। পাশের হার ৯২.৮৬%।

পূর্ব রেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৭ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৬৮.১২%।

আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১২৯ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাশের হার ৮৭.৭৫%।

সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৬ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাশের হার ৮৮.৮৯%।

বাণীগ্রাম-বহরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৮ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৭০.৩৯%।

ঢাকাদক্ষিণ বালিকা স্কুল ও কলেজ থেকে ১০৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৬ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৭২.৩৮%।

বাগিরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮৫ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাশের হার ৯২.৩৯%।

দক্ষিণভাগ এস.ই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৩ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৭২.৬০%।

রণকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮০ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৭০.৮০%।

মুরাদিয়া ছবুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৪ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৮৭.১০%।

ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ২২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৯৩ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। পাশের হার ৮৪.২৮%।

শাহজালাল একাডেমী থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৭ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৭৪.৬০%।

লক্ষণাবন্দ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৩ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৭০.৮৭%।

মীরগঞ্জ বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৪৫ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন। পাশের হার ৮৬.৩০%।

আতহারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৪২ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন। পাশের হার ৮৭.১২%।

রানাপিং আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১০৯ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাশের হার ৭৬.২২%।

শাহজালাল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৯১ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাশের হার ৮১.২৫%।

ফুলসাইন্দ বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৬ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৭৬%।

পনাইরচক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১১ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার ৭২.৫৫%।

হাজী আব্দুল আহাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৬০ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাশের হার ৭৫.৪৭%।

বরায় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৮ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৮৬.৫৭%।

ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১৭ জন উত্তীর্ন হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার ৭১.৩৪%।

মছলম উদ্দিন খান একাডেমী থেকে ৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৯ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৮০.৫৬%।

হাজীপুর আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৮ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৮১.৬৯%।

কালীকৃষ্ণপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৭ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৬২.৭৯%।

বৃটিশ আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনায় হাইস্কুল থেকে ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৭৮.৫৭%।

এদিকে গোলাপগঞ্জে দাখিল পরীক্ষায় ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮২১জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৬২৬জন কৃতকার্য হয়। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯জন। পাশের হার ৭৬.২৪%। দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে ফলাফলের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব ফুলসাইন্দ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৩ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৯৫.৮৩%।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বরায়া উত্তরভাগ দাখিল মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৬ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৯৪.৭৩%। তলানীতে রয়েছে রায়গড় পুরানবাজার হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৯ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৫০%।

এদিকে ফলাফলের হার ৫২.৬৩% হলেও ৬টি জিপিএ-৫ পেয়ে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে উপজেলার মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে লক্ষনাবন্দ হোফ্ফাজে কোরআন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেলেও ফলাফলে শেষের দিকে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এবছর ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১০ জন উত্তীর্ন হয়েছে।