সিলেটে কিছুতেই দূর হচ্ছে না জ্বালানি তেল সংকট


ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন স্থানীয় পরিশোধনাগার বন্ধ থাকা, রেলের ওয়াগন সংকট ও শীত মৌসুমে চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে এই সংকট। জ্বালানি তেল সংকট নিরসনে সিলেটের পরিশোধনাগারগুলো চালুর দাবিতে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু নানা অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে শোধনাগারগুলো।

এদিকে, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় সিলেটের ব্যবসায়ীদের ভৈরব থেকে নিজ খরচে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জ্বালানি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেট জেলায় ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিন মিলিয়ে প্রতিদিনের চাহিদা ১০ লাখ লিটার। আগে সিলেটের গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত উপজাত দিয়ে স্থানীয় শোধনাগারগুলোর মাধ্যমে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠানো হতো। কিন্তু গেল প্রায় দুই বছর আগে বিএসটিআইর মানসম্পন্ন জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এমন অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিলেটের ছয়টি শোধনাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিলেটের ছয়টি শোধনাগারের মধ্যে স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত কনডেনসেট দিয়ে প্রতিদিন গোলাপগঞ্জের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড- আরপিজিসিএলের দুটি প্ল্যান্ট থেকে ৮০০ ও ৫০০ ব্যারেল, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের আওতাধীন হরিপুরে ৬০ ব্যারেল, কৈলাসটিলায় ৩০০ ব্যারেল এবং রশিদপুরের দুটি প্ল্যান্টে যথাক্রমে ৩ হাজার ৭৫০ ও ৪ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি উৎপাদন হতো। সিলেটের শোধনাগারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেটগুলো চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি শোধনাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। সেখান থেকে রেলের ওয়াগনে করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিন সিলেটে এনে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো। সিলেটের শোধনাগারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই দেখা দেয় জ্বালানি সংকট। রেলের ইঞ্জিন ও ওয়াগন সংকট, ঘন ঘন দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হতে থাকে। এ নিয়ে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করলে গত বছরের ১০ মার্চ সিলেটে আসেন বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক। তিনি সংস্কারের মাধ্যমে সিলেটের সব কটি শোধনাগার ফের চালুর আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু রশিদপুরের প্ল্যান্টটি চালু হলেও বন্ধ রয়েছে বাকিগুলো।

শীত মৌসুমে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। সিলেটের ডিপোগুলোয় জ্বালানি তেল না পেয়ে গত সোমবার দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে মেঘনা ডিপোর সামনে বিক্ষোভ করেন ট্যাংকলরি শ্রমিকরা। নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহের দাবি জানিয়ে সিলেট বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেন বলেন, ‘ডিপো কর্মকর্তারা ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। যদি তারা তেল সরবরাহ করতে না পারেন তাহলে তাদের এখানে থাকার দরকার নেই।’

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন একটি করে তেলবাহী লরি চট্টগ্রাম থেকে আসার কথা, সেখানে এসেছে মাত্র একটি। তাই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা উপায়ন্তর না পেয়ে ভৈরব থেকে তেল আনছেন। এতে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

সূত্র : সিলেট ভিউ