Advertisement (Custom)

বিজ্ঞাপন
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
সর্বশেষ সংষ্করণ 2021-10-06T13:57:24Z
সিলেট

তারবিহীন সিলেট নগরী গড়তে ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ

বিজ্ঞাপন

ডেস্ক রিপোর্ট : তারের জঞ্জাল নেই, নেই কোনো বৈদ্যুতিক খুটি, ঝড়বৃষ্টিতে কমে আসবে বিদ্যুত বিভ্রাট। বিদ্যুত সমস্যা নিরসনে পুরো সিলেট নগরী তারবিহীন করতে ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরু দিকে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তবে এই প্রকল্পের কাজ সিটি কর্পোরেশনের আগের সীমনায় অর্থাৎ ২৬.৫ কিলোমিটার জায়াগায় শুরু হচ্ছে বলে জানায় বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিউবি) ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রকৌশল বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তারবিহীন হয়ে উঠবে নগরী। ঝড়বৃষ্টিতে বিদ্যুতবিভ্রাট থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি সড়কের ওপর ঝুলে থাকবে না বিদ্যুতসহ বিভিন্ন পরিষেবার তারের জঞ্জাল। ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে নগরীর। সিলেটের শাহজালাল (র.) দরগাহ এলাকার এক কিলোমিটার সড়কে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তারবিহীন সেই সড়কের ছবি দেশে-বিদেশে বেশ প্রশংসিতও হয়।

প্রকল্পে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আগে সীমানায় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। তবে সিটিতে যুক্ত হওয়া নতুন ৩৩ কিলোমিটার এলাকা এই প্রকল্পে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান।

তবে এই প্রকল্প কতটা আলোর মুখ দেখবে এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর আগে সিলেটের বিদ্যুত সমস্যার উত্তরণে ২০১৭ সালে ‘বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ নামে ১ হাজার ৮৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের অধীনে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের কাজ করা হয়। নগরীর প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানার কাজ শেষ করা হয়। এর মধ্যে আম্বরখানা থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় ভুগর্ভস্থ বিদ্যুত সঞ্চালন চালু হয়েছে। তবে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়ায় মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানার পর আবার মাটির উপর দিয়ে লাইন টানার কাজ শুরু করে বিদ্যুত বিভাগ। ফলে এই প্রকল্পের সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর সড়কজুড়ে বৈদ্যুতিক তারের প্যাঁচগোছ, বিদ্যুতের সঙ্গে টেলিফোন, স্যাটেলাইট, ইন্টারনেটের তার মিলিয়ে রীতিমতো জঞ্জাল পাকিয়ে ছিল নগরীর সড়কগুলোর উপরে। এতে নগরীর সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি সামান্য ঝড়বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ে নগরী। এ দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে নগরীতে শুরু হয় ভূ-গর্ভস্থ বিদ্যুত সরবরাহ লাইনের কাজ। এতে সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। বিদ্যুতের সঙ্গে অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্যাবলও মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। শাহজালাল মাজার সড়কের পর এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার বিদ্যুত সাব-স্টেশন কেন্দ্র থেকে আম্বরখানা হয়ে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার-সার্কিট হাউজ সড়ক ও রিকাবীবাজার হয়ে ওসমানী হাসপাতাল পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ লাইন টানা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সিলেটের বিদ্যুৎ সমস্যার উত্তরণে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, দেশে প্রথমবারের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের কাজ হয়েছে সিলেটে। ইতোমধ্যে হজরত শাহজালাল রহ. মাজার এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে একটি ৫৫ কোটির টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাড়ে ২৬ কিলোমিটার এলাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এরজন্য ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাজটিতে সহযোগীতা করবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। 

এব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, তারবিহীন সড়ক প্রকল্পে ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ কাজ শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীবছরের শুরুতে কাজ শুরু করা হবে।

বিজ্ঞাপন

জনপ্রিয় সংবাদ