খেলার মাঠে থানা ভবন : রক্ষার প্রতিবাদ করায় মা-ছেলে আটক


ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা খেলার মাঠে ভবনের নির্মাণের প্রতিবাদ করায় সৈয়দা রত্না ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মোহাম্মদ ঈসা আবদুল্লাহকে আটক রেখেছে পুলিশ। রবিবার বেলা ১১টায় তাদের আটক করা হয়। রত্না স্থানীয়দের সঙ্গে মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সক্রিয় ছিলেন।

পুলিশের দাবি ওই মা-ছেলে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করায় তাদের আটক রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানায় পুলিশ। 

আজ সন্ধ্যায় সৈয়দা রত্নার মেয়ে শেউঁতি শাহগুফতা অভিযোগ করে বলেন, তার মায়ের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। বেলা ১১টায় আটক করে নিয়ে তার মাকে প্রথমে থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। পরে মা সেখানে খারাপ লাগার কথা বললে তাকে থানার একটি কক্ষে রাখে। তবে তার ভাইকে থানার হাজতখানাতেই রাখা হয়। 

ঘটনা সম্পর্কে শেউঁতি শাহগুফতা বলেন, ‘কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষায় অন্যদের সঙ্গে আমার মা আন্দোলন করে আসছিলেন। গত রাতে মাঠে ইট-সুরকি ফেলছিল পুলিশ। সকালে মা মাঠের সামনে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ করছিলেন। তখন তাকে আটক করা হয়। পরে আমার ভাই বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এলে তাকেও ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।’ 

এদিকে, কয়েক দশক ধরে শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত তেঁতুলতলা মাঠ দখল করে কলাবাগান থানা নির্মাণ করার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ এবং এই আন্দোলনের সমন্বয়ক, উদীচী কর্মী সৈয়দা রত্না ও তার ছেলেকে অন্যায়ভাবে আটকের প্রতিবাদে তেঁতুলতলা মাঠে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান উদীচী, বেলা, নিজেরা করি, বাপা, গ্রিন ভয়েসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা। 

সৈয়দা রত্না ও তার ছেলেকে আটক করার পর থেকে স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। এ ছাড়া এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বইছে। 

স্থানীয়রা জানায়, কলাবাগান এলাকায় তেঁতুলতলা মাঠে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পাশাপাশি সেখানে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন হতো। 

স্থানীয় লোকজন জায়গাটি মাঠ হিসেবেই ব্যবহার করে আসছেন। ওই মাঠের জায়গায় কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। 

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পান্থপথের কনকর্ড টাওয়ারের সামনে কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানার ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়। ‘কলাবাগান এলাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও এলাকাবাসী অংশ নেয়। 

ওই মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দা রত্না বলেন, ‘মাঠটি রক্ষার দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কার্যালয়েও চিঠি দিয়েছেন। এলাকার সংসদ সদস্য আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু এখন শিশুদের যাতায়াতই বন্ধ করা হয়েছে।’ 

স্থানীয় কয়েকজন জানান, মাঠে থানা ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে জোরালো ভূমিকা রাখছিলেন সৈয়দা রত্না। সে কারণেই তাকে ও তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। মা-ছেলেকে আটকের সম্পর্কে জানতে কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

তবে ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বলেন, সৈয়দা রত্না ও তার ছেলে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। এ ছাড়া তারা ফেসবুক লাইভে পুলিশের নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন। এ কারণে তাদের দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে নানা মিথ্যা তথ্য প্রচার করারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হতে পারে।