মেয়র আরিফের টার্গেট বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.লীগ নেতা এমএ সালামের বাড়ি !


জি ভয়েস ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ নেতা, ষাটের দশক থেকে আমৃত্যু স্বাধিকার, স্বায়ত্ত্বশাসন, মুক্তিযুদ্ধ সহ সিলেটের সকল ন্যায়সংগত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রথম সারির সংগঠক ও নেতা, সুপরিচিত আইনজীবী, একজনসৎ, নির্লোভ ও আদর্শিক রাজনীতিবিদ, সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডভোকেট আব্দুস সালামের বাড়ী ভাংচুর করার পায়তারা করছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। এমন অভিযোগ করছেন তার পরিবারবর্গ ও সিলেটের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

সম্প্রতি সিলেট সড়ক ও জনপদ বিভাগ ও সিলেট সিটি করর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাঁর মদিনা মার্কেস্থ বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একতরফাভাবে সময় সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা কোন প্রকার আইনানুগ নোটিশ প্রদান করে নিবীর মুক্তিযুদ্ধা, আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম এডভোকেট এম এ সালামের পরিবার।

এ জন্য মরহুমের কন্যা, শাবি ও সিলেট ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষিকা, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বসবাসরত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আফসানা সালাম সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ, আলোচনা করে বিধিসম্মত সুস্পষ্ট কোন জবাব না পেয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিনি বলেন, চল্লিশ বছর ধরে আমারা এই জমির খাজনা দিচ্ছি। খাজনা তো আর সরকারী জায়গার দিতে পারিনা। তিনি বলেন, দলিল, নামজারী সহ যাবতীয় কাগজপত্র, সিটি কর্পোরেশনে ২০১৩ সালে জমা দিয়ে দালান করার অনুমোদন এনে আমরা দালান করেছি। সরকারী জমি হলে কিভাবে সিসিক আমাদেরকে বাড়ী নির্মাণের অনুমতি দিল।

তিনি বলেন, কিভাবে, কোনদিন, কোন জরিপের মাধ্যমে আমাদের এই জমি সরকারের হয়ে গেল ? যা আমরা কোনদিন জানতেও পারলাম না ? কোন প্রকার নোটিশ ছাড়া কারো বাডি ভাঙ্গতে চলে আসা আইন সিদ্ধ নয় বরং অন্যায় পেশী শক্তির প্রদর্শন। সরকার কারো জমি অধিগ্রহন করলেও তার জন্যে সময়, নোটিশ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করার কথা, যা করা হয়নি।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডভোকেট আব্দুস সালাম এর বহু স্মৃতি বিজড়িত সিলেট শহরের মদিনা মার্কেট সংলগ্ন, সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত বাসা-বাড়িটি বেআইনীভাবে ভেঙ্গে ফেলার প্রচারণার সংবাদে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন সিলেটের বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকরা।

এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডভোকেট আব্দুস সালাম জমি ক্রয় থেকে শুরু করে বাসা-বাড়ী নির্মাণ পর্যন্ত সমুদয় কার্যাদি সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের আইনানুগ, বিধিসম্মত অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন করে ছিলেন, যা আজ তাঁর সুযোগ্য উওরাধিকারীরা ভোগ করছেন। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধার সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে নির্মিত বাড়ি ভাংচুর করে দেয়ার জন্য সিসিক, সড়ক ও জনপদ বিভাগ বেআইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো তা সচেতন মহলের বোধগম্য নয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, উন্নয়নের নামে সিলেটের মাটিতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে দিবেন না। সিলেট সিটি করর্পোরেশন এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমের নামে যে অসহনীয় অরাজকতা সৃষ্টি হতে দিবে না সচেতন মহল। শীঘ্রই নগরবাসীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে সচেতন মহলের প্রতি নেতৃবৃন্দ উদাত্ত আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডভোকেট আব্দুস সালাম এর বাড়ি রক্ষায় সিলেট সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, বিধিসম্মত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। অন্যথায় বহু স্মৃতিবিজড়িত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীটি রক্ষায় ব্যর্থতার পরিণাম শুভ হবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এডভোকেট আব্দুস সালাম এর বাড়ি রক্ষায় সিলেটের সকল সচেতন মহলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য নেতৃবৃন্দ উদাত্ত আহ্বান জানান।

বিবৃতি দাতারা হলেন-ব্যারিষ্টার মোঃ আরশআলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সদরউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট রফিকুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজউদ্দিন আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়েছুর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওলিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল, সিলেট জেলা জাসদ সভাপতি লোকমান আহমদ এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, জেলা সাম্যবাদী দলের সম্পাদক ধীরেন সিংহ, আইডিয়া’র প্রধান নির্বাহী নজমুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অম্বরীষ দত্ত, বিভাস শ্যাম যাদন, এনামুল মুনীর, বিশিষ্ট গবেষক সাকি চৌধুরী, সিলেট জেলা সিপিবি সভাপতি ফরহাদ হোসেন, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি মোঃ আরি ফমিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি সিকান্দর আলী, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, সিলেট জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক কে.এ.কিবরিয়া চৌধুরী, মহানগর জাসদ সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, জেলা বাসদ সমন্বয়ক আবু জাফর, সিপিবি জেলা সম্পাদক খায়রুল হাসান, জেলা ঐক্য ন্যাপ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস বাবুল, ওয়ার্কার্স পার্টি ( মার্কসবাদী) জেলা সভাপতি সিরাজ আহমদ, সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক সুশান্ত সিনহা, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক জুনেদুর রহমান চৌধুরী, বাসদ মার্কসবাদী নেতা এডভোকেট হুমায়ুন রশিদ শোয়েব, বাসদ নেতা জুবায়ের চৌধুরী সুমন, প্রণব জ্যোতি পাল, সাম্যবাদী আন্দোলন নেতা এডভোকেট রণেন সরকার রনি, নারী জোট নেত্রী শামীম আখতার, সীমা শ্যাম, সুফিয়া বেগম।