সিলেটে প্রেমিকার বিয়ের খবরে প্রেমিকের আত্মহত্যা


ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের বিশ্বনাথে অনার্স পাস এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ শয়ন কক্ষের সিলিংয়ের হুক থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার নাম সালেহ আহমদ (২৪)। সে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামের ডুবাই প্রবাসী এরশাদ আলীর বড় ছেলে।

বুধবার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ^নাথ থানার অফিসার ইনচার্জ।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ডুবাই থেকে দেশে ছুঁটে আসেন নিহত সালেহ আহমদের বাবা এরশাদ আলী। তিনি দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, দীর্ঘ ১০ থেকে একই গ্রামের আব্দুর রশীদের মেয়ে ফাতেহা আক্তার মিমি’র সাথে সালেহ আহমদের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি নিয়ে দু’বছর পূর্বে মেয়ের বাবা’র কাছে বিয়ের প্রস্তাবও দিলেও তিনি রাজি না হয়ে বলেছিলেন- মেয়ের ছেলে শেষ হওয়ার পর বিষয়টি দেখা যাবে। এর কয়েক বছর পর আবার বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে তাতেও রাজি হননি আব্দুর রশীদ।

তিনি আরো বলেন, গত ২৮ জুন উভয় পরিবারের অজান্তে আমার ছেলে সালেহ আহমদ ও ফাতেহা আক্তার মিমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডের কাজীটুলাস্থ কাজী অফিসে ১০ লাখ টাকা দেন মোহরে কাবিন রেজিস্ট্রীর করে বিয়ে করেন তারা। এরও আগে ২৪ জুন ওই প্রেমিক যুগল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকারনামাও করেছেন। কিন্তু তাদের বিয়ে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেনে নেয়া হয়নি। এরই মধ্যে ফাতেহা আক্তার মিমি’র পরিবার অন্য ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করে ফেলেন। গত মঙ্গলবার বিয়ের দিন তারিখ নির্ধারণ করতে উভয় পক্ষ বসেন। এই খবর পেয়ে কলেজ ছাত্র সালেহ আহমদ আত্মহত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করছেন।

নিহতের বাবা এরশাদ আলী জানান, আমার ছেলে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ের পর কয়েক দিন তারা দু’জন সংসারও করেছে। আমার একটি ডাক্তারি রিপোর্ট পেয়েছে, এতে দেখা গেছে ফাতেহা আক্তার মিমি একবার প্রেগনেটও হয়েছিলো। ছেলের মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ি ফাতেহা আক্তার মিমি। আমরা এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করবো।