সাইকেল চুরিতে বাধা দেয়ায় শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে মারধর ছাত্রলীগ নেতার !


ডেস্ক রিপোর্ট : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে সাইকেল চুরির চেষ্টার পর ধরা খেলে সাইকেল মালিক জুয়েল চাকমাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

জুয়েল অভিযোগ করেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু হল থেকে সাইকেল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ তারেক রহমান। তবে এ সময় তাকে দেখে পেলেন সাইকেলের মালিক জুয়েল চাকমা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটকে তারেককে ধরে আটক করলে জুয়েল ও তারেক দু'জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে এদিন রাতে রাসেলের সহপাঠীরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন জুয়েল।

জুয়েলের অভিযোগ, রাসেল সাইকেল নিয়ে যেতে দেখে ফেলায় তাকে মারধর করা হয়। তারেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমানের অনুসারী।

জুয়েল মারধরের শিকার হয়েছেন এমন একটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দিয়েছেন। সেখানে জুয়েল বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাউকে না জানিয়ে জুয়েলের রুমের সামনে থেকে সাইকেল নিয়ে যায় তারেক। ঘটনাটি টের পেয়ে রুম থেকে বাইরে আসি। এরপর তারেককে ধরার উদ্দেশ্যে গেলে তার নাগাল পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে প্রধান ফটকের সামনে তারেককে আটক করা হয়। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হল থেকে সাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারেক জানায়, ‘আমার বন্ধু খালেদ বলেছে ঐখানে দুটি সাইকেল আছে। একটি নিয়ে আয়’। এজন্য আমি নিয়ে আসছি। এসময় জুয়েলকে অদৃশ্য শক্তির ভয় দেখিয়ে আমাকে হুমকিও দেওয়া হয়।

জুয়েল চাকমা আরো বলেন, ‘তারেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে জানতে পেরে আমি তাকে আর কিছু বলিনি। পরে তাকে সাইকেল দিয়ে আসি যাতে তার কাজটি শেষ করতে পারে। এরপর রাত ৯টার দিকে সে রুমের সামনে সাইকেল রেখে যায়। এদিকে এ ঘটনার জের ধরে পরবর্তীতে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে জুয়েলকে মারধর করে বলে জানায় জুয়েল'।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক রাত সাড়ে নয়টার দিকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সজিবসহ আরো অজ্ঞাত ৫/৬ জন জুয়েলের রুমে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় জুয়েল ভয় পেয়ে পাশের রুমে এক বড় ভাইয়ের কাছে চলে যায়। পরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতাহার, সিয়াম ও সাইকেল নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী তারেক রহমানসহ আরো প্রায় ২০/২৫ জন জুয়েলের রুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে জুয়েলকে টেনে হিচড়ে রুম থেকে বের করে নিয়ে মারধর করে।

এ ঘটনায় নিজেকে নিরাপদহীন মনে করে হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়েল চাকমা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইকে মো. তারেক রহমান বলেন, অভিযোগ বা মারধরের ঘটনা এটা মিথ্যা, এ রকম কোন কিছুই ঘটেনি। তবে সাইকেলকে কেন্দ্র করে আমাদের মাঝে একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তাই শুক্রবার প্রভোস্ট এবং বড় ভাইযরা বসে আমাদেরকে মিলিয়ে দিছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, আমার গ্রুপের কর্মী তারেক রহমানের সাথে জুয়েল নামের এক শিক্ষার্থীর মধ্যে সাইকেল নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি প্রভোস্টরা সমাধান করে দিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে হলের প্রভোষ্ট মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম বলেন, আমরা জানা মতে সাইকেলের বিষয় নিয়ে হলের দুই শিক্ষার্থীদের মাঝে কথা-কাটাকাটি ও একটু হাতাহাতি হয়। পরে সেখানে হলের সহকারী প্রভোস্টরা গিয়ে মিটমাট করে দেয়। তবুও তাদের মাঝে ঘটনার রেশ থেকে যাওয়ার আমরা তাদের সাথে কথা বলে ঘটনাটি আজকে মিমাংসা করে দিয়েছি।

সূত্র : সিলেট টুডে